স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১১ জুন:
সিপিএমের আন্দোলনের চাপে প্রশাসকের পদে তৃণমূল সদস্যকে রাখা থেকে পিছিয়ে এল সরকার। এ ব্যাপারে পুরো ও নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে নোটিশ দিয়ে একথা জানানো হয়েছে যে তাহেরপুরে প্রশাসকের পদে সিপিএমই থাকবে। তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত তাহেরপুর নোটিফাইড এরিয়াতে পৌরসভায় পৌরবোর্ডের মেয়াদ গত ২৪ মে শেষ হয়ে যায়। সেই সময় রাজ্য সরকারের নগর উন্নয়ন এবং পৌর দপ্তরের এক নির্দেশিকায় প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য পদে তৃণমূলের দুই কাউন্সিলরকে যুক্ত করা হয়েছিল। এই নিয়ে আন্দোলনে নামে সিপিএম। লাগাতার আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করল সরকার। আজ রাজ্য সরকারের পুরো ও নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে নোটিশ দিয়ে জানানো হয় তাহেরপুরে প্রশাসকের পদে একমাত্র সিপিএমই থাকবে। তাদের এই দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।

তাহেরপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান রতন রঞ্জন রায় জানান, আমাদের আজ নৈতিক জয় হয়েছে। দলগতভাবে আমরা সিপিএম থেকে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলাম আমাদের জয় হয়েছে। তার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ যে তারা তাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। রাজ্য সরকার তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন।এটা আমাদের গণতন্ত্রের জয় নৈতিক জয়।
তাহেরপুর এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুপ্রতীপ রায় জানান, এটা গণতন্ত্রের জয়। ধারাবাহিক আন্দোলন তাহেরপুরবাসীর এবং গণতন্ত্রের জয়। কাল নবান্নে সাড়ে বারোটা নাগাদ প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি আমরা জমা দিয়েছিলাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা তাহেরপুরের প্রতিটা বাড়িতে পৌঁছেছি। এমনকি দক্ষিণপন্থী লোকজনও সই দিয়েছেন। এই ঘটনায় মানুষের মধ্যে তীব্র একটা ঘৃণা তৈরি হয়েছিল। সাধারণ ভোটাররাও এই ঘটনা মেনে নিতে পারেননি। তাই সরকার বাধ্য হল আমাদের দাবি মানতে।
রানাঘাট জেলা তৃণমূলের সভাপতি শংকর সিং জানান, সরকারের আগেও ওনাকে প্রশাসক হিসেবে নোটিফিকেশান করেছিল, এমন তো নয় যে ওনাকে বাদ দিয়ে করা হয়েছিল অন্য কাউকে। হয়তো ওখানে প্রশাসক মন্ডলীতে বিরোধীদের দুজনকে রাখা হয়েছিল। সেটা ওনারা আপত্তি করেছেন সরকার মেনে নিয়েছে। এতে অনৈতিকতা নৈতিকতার লড়াই কি আছে। উনি দায়িত্বে যখন আছেন দয়া করে মানুষ যেন পরিষেবা পায়, সেটাই সরকার চায়। উন্নয়নের জন্য যত রকম সহযোগিতা আছে তার জন্য সরকার করবে। উনি শুধু মন দিয়ে উন্নয়নের কাজটা করে যাক। এখানে আমার মনে হয় নৈতিক অনৈতিকের স্লোগান তুলে কাজকে পিছিয়ে রেখে এসব বলার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমার মনে হয় না।

