শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ৩ জুলাই: নিজ নিজ যোগ্যতা ও মেধার জোরে সারা পৃথিবীর প্রতিটা কোনায় আজ বাঙালিরা পৌঁছে গেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের উৎকৃষ্টতার স্বাক্ষর রেখেছেন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু দেশের বাইরে থেকেও আজও বাংলার জন্য বাঁচেন এই প্রবাসী বাঙালিরা। রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা তাদেরও নাড়িয়ে দিয়েছে। তাই সুদূর ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী আইটি ইঞ্জিনিয়ার যুধাজিৎ সেন মজুমদারের নেতৃত্বে প্রবাসী বাঙালিরা রাজ্যে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সিলিকন ভ্যালির একটি আইটি সংস্থার কর্ণধার যুধাজিৎ সেন মজুমদারের নেতৃত্বে সারা পৃথিবীর প্রবাসী বাঙালিরা শুধু রাজনৈতিক হিংসায় আক্রান্তদের পাশেই নয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিতদের জন্যেও প্রতিনিয়ত একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে চলেছেন।

অনিতা সেন মজুমদার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসী বাঙালিরা। সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী বাঙালিদের এক সূত্রে গাঁথা সম্ভব হয়েছে পেশায় আইটি ইঞ্জিনিয়ার যুধাজিৎ সেন মজুমদারের নেতৃত্বেই। তিনি “এন আর আইজ ফর বেঙ্গলে”র মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিদের এক জায়গায় এনেছেন, যারা রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
রাজ্যে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার। বহু মানুষ ঘরছাড়া। সেই সমস্ত হিন্দু পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই প্রবাসী বাঙালিরা। রাজনৈতিক হিংসায় আক্রান্ত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়া প্রায় দু’হাজার পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা করছেন তারা। আমফান হোক বা ইয়াস ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগণা, সুন্দর বন অঞ্চলে তারা মানুষের জন্য খাবার, পানীয় জল, ত্রিপল পাঠিয়েছেন।

সারা পৃথিবীর মতো পশ্চিমবঙ্গেও করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অক্সিজেনের হাহাকার ছিল রাজ্যজুড়ে। সেই সময় কয়েক লাখ টাকার অক্সিজেন সিলিন্ডার ও কনসেন্ট্রেটরের ব্যবস্থা করেছেন তারা রাজ্যের মানুষের জন্য। এমনকি করোনা পরিস্থিতিতে যে মানুষগুলোর পেটে টান পড়েছে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুধাজিৎ সেন মজুমদারের নেতৃত্বে প্রবাসী বাঙালিরা। রান্না করা খাবার অসহায় মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে অনিতা সেন মজুমদার ফাউন্ডেশন।

ছবি: যুধাজিৎ সেন মজুমদার।
আরও পড়ুন ভুয়ো ভ্যাকসিন, ভুয়ো তৃণমূল নেতা, ভুয়ো সিবিআইয়ের পর এবার রাজ্যে ভুয়ো ডিএসপি
এরা সকলেই রাজ্য ছেড়ে বিদেশের মাটিতে রয়েছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু মাটির টান তারা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেন। আর সেই মাটির টানেই বাঙলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ না জানিয়ে উপায় থাকে না।

