পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৮ সেপ্টেম্বর: দুর্গাপুজোর আড়ালে কোটি টাকার অবৈধ জুয়ার রমরমা আসর হিলিতে। গাড়ি-বাড়ি বিক্রি ও বন্দক রেখে সর্বসান্ত একাধিক পরিবার। স্থানীয় থানার যোগসাজোশ থাকায় গোপন খবরে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান ত্রিমোহিনীতে। উদ্ধার আটটি মোটর বাইক সহ মোটা অঙ্কের বোর্ডমানি। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাড়ির মালিককেও। যদিও বোর্ড মানির কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় হিলির ত্রিমোহিনী এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে ধৃত ওই ব্যক্তির নাম প্রভাকর পাল। যার বাড়ি থেকেই ওইদিন রাতে উদ্ধার হয়েছে আটটি মোটর বাইক সহ মোটা অঙ্কের বোর্ডমানি।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের খবর অনুযায়ী, হিলির ত্রিমোহিনী এলাকায় স্থানীয় একটি ক্লাবের পুজোর আড়ালেই চলছিল কোটি টাকার জুয়ার আসর। এলাকার পুলিশ প্রশাসনের একাংশকে সঙ্গে নিয়েই প্রায় ২৫ দিন ধরে রমরমিয়ে চলছিল ওই আসরটি। যে আসরেই রাতের অন্ধকারে গাড়ি বাড়ি বিক্রি করে ও বন্দক রেখে সর্বসান্ত হয়েছেন এলাকার একাধিক পরিবার। যাদের গোপন অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার রাতে বালুরঘাট থেকে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম ত্রিমোহিনীতে চলা ওই জুয়ার বোর্ডে হানা দেয়। ঘটনার আগাম খবর পেয়ে জুয়াড়িরা পালাতে সক্ষম হলেও তাদের আনা আটটি মোটরবাইক আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের ওই বিশেষ টিম। উদ্ধার হয়েছে মোটা অঙ্কের বোর্ডমানিও। যদিও বোর্ডমানির বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে প্রভাকর পাল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হয়েছে পুলিশ। যে ঘটনাকে ঘিরে ওইদিন রাতে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। দীর্ঘ ২৫ দিন ধরে এলাকায় কোটি টাকার অবৈধ জুয়ার আসর চললেও স্থানীয় থানার পুলিশ কেন নিশ্চুপ ছিল উঠেছে সে প্রশ্ন? শুধু তাই নয়, শনিবারের ওই অভিযান চালাতে বালুরঘাট থেকে কেন স্পেশাল পুলিশ বাহিনীকে এলাকায় পৌছাতে হয়েছিল উঠেছে সে প্রশ্নও। এদিকে উদ্ধার হওয়া ওই মোটরবাইক গুলি চোরাই কিনা তা নিয়ে জোর তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
যদিও আটক হওয়া ওই মোটর বাইকের এক মালিক পার্থপ্রতীম সরকার জানিয়েছেন, তার মোটর বাইকটি চোরাই নয়। তার কাছে যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। তবে দরকার পড়ায় সেটি বন্দক রেখেছিলেন বন্ধু বান্ধবের কাছে।
ডিএসপি সদর সোমনাথ ঝাঁ জানিয়েছেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশেই বিশেষ টিম অভিযান চালিয়েছে। আটটি মোটর বাইক সহ একজনকে ধরে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

