সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৪ এপ্রিল: সমাজের দুঃস্থ, পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে উঠে আসা ১১ জোড়া ছেলে-মেয়ে। তাঁদের সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ করার প্রয়াস নেওয়া হল পুরুলিয়ায়। এই জেলার তো বটেই পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ডেরও একাধিক জায়গার ছেলে মেয়েদের এই সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ করায় সাহায্য করল ইনার হুইল ক্লাব অফ পুরুলিয়া।

সোমবার পুরুলিয়া শহরের একটি ধর্মশালাতে আয়োজন করা হয়েছিল গণ বিবাহ অনুষ্ঠানের। আয়োজন দেখে আপ্লুত পাত্র-পাত্রী থেকে শুরু করে তাঁদের অভিভাবকরাও। হিন্দু শাস্ত্র মতে সম্পূর্ণ রীতিনীতি মেনে বিয়ে হয়। নতুন সংসারের সাংসারিক সামগ্রী সহ একাধিক উপহার দেওয়া হয় নব দম্পতিদের। এর পাশাপাশি ছিল প্রীতিভোজের আসর। ধুমধাম করে সম্পন্ন হয় এদিনের শুভ অনুষ্ঠান। প্রতি জোড়ায় প্রদান করা হয় নতুন আলমারি, বিছানা সামগ্রী, চেয়ার, বাসন। এখানেই শেষ নয়। বর কনের বস্ত্র, লজ্জা বস্ত্র, অলঙ্কার সহ সমস্ত ধরনের প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবস্থাও করেন উদ্যোক্তারা। এদিন থেকে নতুন জীবনে পা দিলেন সঞ্জয় ও নিশা, রাজেশ ও অঞ্জলী, পিন্টু ও গৌরীরা। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে ১১ দম্পতি প্রত্যেকেই আনন্দিত। এদের আগামীর জীবন সাফল্যে ভরা হোক এই শুভ কামনা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে আয়োজকরা। সামাজিক কাজ করায় সংস্থার কাজে খুশি পাত্র-পাত্রীর অভিভাবকরাও। তাঁরাও আমন্ত্রিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। নিজেদের ঘরের ছেলেমেয়ের এইভাবে বিয়েতে খুশি প্রত্যেক পরিবারই।

এক পাত্রীর অভিভাবক বলেন, “এরকমভাবে আমরা নিজেদের মেয়ের বিয়ে দিতে পারতাম না। অত সামর্থ্য নেই। যেভাবে এরকম জাঁকজমকভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে, তাতে আমরা প্রত্যেকেই খুব আনন্দিত। আমি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
আর এক অভিভাবকের কথায়, “বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলাম, কীভাবে ঘরের মেয়েকে বিয়ে দেব। তারপর এই সংস্থার তরফে আমাদের এই গণবিবাহ অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়। আমরা আনন্দ সহকারে রাজি হই। আজ আমরা অনেকটা নিশ্চিন্ত।”
আয়োজক সংস্থার সভানেত্রী শশী রাজগড়িয়া, সম্পাদিকা শ্বেতা শাহ জানান, “দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি। পরবর্তীকালে সুযোগ হলে এরকমভাবে আরও গণবিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।”

