পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৭ জুন: ভাইঝির শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের বেধড়ক মারে মাথা ফাটল কাকার। নিখোঁজ রয়েছে তার বাবাও। সোমবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের বঙ্গী এলাকায়। গুরুতর জখম প্রীতম মহন্তের মাথায় ৭ টি সেলাই পড়েছে। পাঁচ অভিযুক্তর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন আহত কাকা। ঘটনার তদন্তে নেমেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই বঙ্গী এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত মহন্তর মেয়েকে পড়তে যাওয়ার সময় উত্যক্ত করছিল এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক। সোমবার সকালেও একই ভাবে তালপুকুর এলাকার বাসিন্দা ধলু মালী, ধচা মালী, বিশু মালী ও লাটাই মালী দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর ওড়না টেনে ধরে অশ্লীল ইঙ্গিত করে বলে অভিযোগ। এরপরেই সে বাড়িতে এসে বিষয়টি জানালে বাবা সুশান্ত সেখানে গিয়ে তার প্রতিবাদ করে। সে সময় দুষ্কৃতীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। বাড়িতে গিয়ে সুশান্ত বিষয়টি তার ছোটো ভাই প্রীতমকে জানালে সেও ছুটে গিয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। যারপরেই বাঁশ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে ওই অভিযুক্তরা। বাবা ও কাকাকে মারধর করবার খবর পেয়ে ওই স্কুল ছাত্রী সেখানে গেলে তাকে মারধর করবার পাশাপাশি ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে তার জামা বলে অভিযোগ। যদিও পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসতেই এলাকা ছেড়ে পালায় অভিযুক্তরা। এদিকে মারধরের পরেই সেখানে পড়ে গিয়ে প্রীতম অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। স্থানীয়রাই তাঁকে তুলে বালুরঘাট হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনায় মোট ৫ জনের নামে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারের তরফে। অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নেমেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।

আহত কাকা প্রীতম মহন্ত ও মা ষষ্ঠী মহন্ত বলেন, বেশকিছুদিন ধরে তার মেয়েকে উত্যক্ত করছিল ওই যুবকরা। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বলবার পরেও তারা কোনও কর্ণপাত করেনি। উলটে এদিন ফের এমন কটুক্তি করায় মেয়ে বাড়িতে এসে কান্না শুরু করে। যার প্রতিবাদ করতে গিয়েই তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে মেয়ের বাবা প্রশান্ত। এদিকে উলটে তাদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ওই অভিযুক্তরা। বিচারের আশায় পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তারা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

