আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৭ আগস্ট: সুদখোরদের হাত থেকে বাঁচতে মামার কাছ থেকে মোটা টাকা ও গয়না ধার নিয়েছিল ভাগ্নে। সেই টাকা ফেরত না পেয়ে দেনার দায়ে আত্মঘাতী হলেন মামা ও মামী মা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মৃতরা হলেন সোমনাথ মণ্ডল (৫৪) ও মন্দিরা মণ্ডল (৪৫)। বাড়ি বীরভূমের মাড়গ্রাম থানার পোড্ডা গ্রামে হলেও কর্মসূত্রে ওই দম্পত্তি রামপুরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শনিবার সকালে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে রামপুরহাট থানার জয়রামপুর সেতুর কাছ থেকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ একই থানার বড়জোল গ্রামের বাসিন্দা ভাগ্নে নিরঞ্জন মণ্ডল টাকা ও গয়না নিয়ে পরিশোধ না করায় এই ঘটনা ঘটেছে।

মেয়ে পুজো মণ্ডল বলেন, “বাবা জীবন বীমা সংস্থার এজেন্ট ছিলেন। সেই সঙ্গে গৃহশিক্ষকতা করে সংসার চালাত। বছর দুয়েক আগে আমার পিসির ছেলে নিরঞ্জন বাবার কাছ থেকে নগদ এক লক্ষ টাকা, মায়ের কাছ থেকে চার লক্ষ টাকার সোনার গয়না নিয়ে যায়। পিসির ছেলে আই পি এল বেটিঙয়ে প্রচুর টাকা হেরেছিল। রামপুরহাটের কিছু ছেলের কাছ থেকে সেই টাকা ঋণ নিয়েছিল। টাকা পরিশোধ করতে না পাড়ায় ঋণদানকারীরা পিসির ছেলেকে মারতে যায়। সে সময় বাবার কাছে কান্নাকাটি করে টাকা নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিল না।
ফোন করলে বাবাকে উল্টে হুমকি দিত। এনিয়ে বাবা খুব চিন্তায় ছিল। কারণ বাব আমার বিয়ের সময় আমাদের না জানিয়ে টাকা ধার করেছিল। সেই টাকা পাওনাদাররা চাইছিল। টাকা পরিশোধ করতে না পেরেই আত্মঘাতী হয়েছেন বাবা মা। আমি পিসির ছেলের শাস্তি চাই।”
মৃতের ভাইঝি পাপিয়া মণ্ডল বলেন, “কাকা আমাকে সব বলত। ভাগ্নেকে টাকা দিয়ে ফেরত পাচ্ছিল না। ফোন করলে হুমকি দিত। টাকা না পাওয়ায় ভেঙে পড়েছিলেন কাকা। কাউকে ঘরের কথা বলতেও পারছিল না। শেষে আত্মহত্যা করলেন। আমরা নিরঞ্জন মণ্ডলের শাস্তি চাই”।
একাধিকবার ফোন করেও নিরঞ্জনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যাগ পাওয়া গিয়েছে। তবে ব্যাগের মধ্যে কি রয়েছে খুলে দেখা হয়নি”।

