“উডর্বান ওয়ার্ড এখন কয়েদিদের আশ্রয়স্থল”, বিস্ফোরক তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ

আমাদের ভারত, ১১ এপ্রিল: আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিরম্বনায় ফেললেন দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। কুনাল বলেন,” এখন তো অনেক প্রভাবশালী চিকিৎসার হচ্ছে উডবার্ন ওয়ার্ডে। কিন্তু জেলে থাকা অবস্থায় আমার দাঁতের যন্ত্রণার চিকিৎসা হয়নি। এখন এসএসকেএমের উডর্বান ওয়ার্ড অসুস্থদের চিকিৎসা স্থল নয় ওটা কয়েদিদের আশ্রয়স্থল’। নাম না করলেও তার ইঙ্গিতে স্পষ্ট হয়ে গেছে তিনি কাকে বোঝাতে চেয়েছেন।

দলের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন কুনাল।‌ সোমবার আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে কেঁদে ফেলেন তৃণমূলের মুখপাত্র। ক্ষোভের সুরে বলেন আইকর মডলকে যিনি তুলে ধরেছিলেন, তিনি আজ মন্ত্রী। তিনি তখন আমাকে পাগল বলেছিলেন। তিনি এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাকে ঘাড় ধরে জেলে ঢোকানো উচিত।

পুলিশি হেফাজতে থাকা কালীন আত্মহত্যার চেষ্টা মামলায় সোমবার আদালতে হাজির হয়ে ছিলেন কুনাল। সেখানেই নাম না করেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুনাল। উডর্বান ওয়ার্ড নিয়ে কুনালের মন্তব্য যে সিবিআইয়ের ডাক পাওয়ার পর উডর্বান ওয়ার্ডে ভর্তি বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দিকে এটা বোঝার বাকি নেই কারোর। এর আগে অনুব্রতর সিবিআই জেরার এড়িয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কুনাল বলেছিলেন, “আমি কখনো সিবিআই জেরা এড়িয়ে যায়নি। ”

গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বাকযুদ্ধে চলছে কুনালের। সম্প্রতি শিক্ষা ক্ষেত্রে কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে সিবিআই। আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে শুক্রবার তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর পাশে থেকেছেন। কিন্তু তার কথা থেকে অনেকেই অনুমান করেছেন ঘটনার দায় তিনি ঠেলে দিচ্ছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। কুনাল বলেছিলেন, ওই বিষয়ে দলের মহাসচিব ও তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিস্তারিত বুঝিয়ে বলতে পারবেন।

এরপর শুক্রবার ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করা হয় যে এই ঘটনায় দলের ভিতরে থাকা বিভাজন কী প্রকাশ্যে চলে এলো? তাতে ফিরহাদ বলেছিলেন, “কোন বিভাজন বা ভাঙন নয়। কুনাল মন্ত্রিসভার সদস্য নয়। আমাদের সব দায়িত্ব যৌথ। আমি যে মন্ত্রিসভার সদস্য পার্থদাও সেই মন্ত্রিসভার সদস্য। ফলে বিষয়টা পার্থদার একার নয়”।

এরপর রবিবার ফেসবুক লাইভ করে ফিরহাদকে জবাব দেন কূনাল। তিনি বলেছিলেন,” ২১ সালের ভোটে আমি একদিকে সমন পেয়েছি আর একদিকে কাঁথিতে দাঁড়িয়ে অধিকারী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করে গিয়েছি। আমি আমার লড়াই করেছি। আমাকে স্মরণ করাতে হবে না যে আমি মন্ত্রী নই। আমার কোন হ্যাংলামি নেই। মন্ত্রী হতে না পারলেও যাদের জীবন অসম্পূর্ণ এসব তাদের দেখাবেন। মন্ত্রী বিধায়ক সাংসদ আমাকে দেখাবেন না। আমাকে জীবন যা শিখিয়েছে তাতেই আমি পূর্ণ। আমি দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছি। জেলে বসে আমি যেমন লড়াই করেছি তেমনি আমি মাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দলকে দিয়েছি। ব্যাংকের নির্দেশ দেইনি চাঁদা দেবেন না। জেল থেকে বেরোনোর পর কেন্দ্রীয় সরকার আমাকে একটি কমিটির চেয়ারম্যান করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। সাংসদ হিসেবে চেয়ারম্যান হলে অসুবিধা ছিলো না। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *