স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ২৩ মে:
আরব সাগরে ওঠা সাইক্লোন ‘তাউত’-এর পর থেকেই নিখোঁজ নদীয়া জেলার দুই যুবক। একজন কোতোয়ালি থানার জাহাঙ্গীরপুরের বাসিন্দা, জাহাজ কর্মী শ্রীবাস ঘোষ ও অপরজন তেহট্টের বাঘাখালির ২৮ বছরের যুবক সজল বিশ্বাস। তাদের পরিবার পুলিসের কাছে একটি নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেছে। শনিবার রাত পর্যন্ত তাদের কোনও খোঁজ দিতে পারেনি পুলিস বা তিনি যে জাহাজ কোম্পানিতে কাজ করতেন সেই কর্তৃপক্ষ।
সূত্রের খবর, বছর চারেক আগে জাহাজে ক্যাটারিংয়ের কাজে মুম্বইয়ে যান শ্রীবাসবাবু। প্রতি মাসে নিয়ম করে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। প্রতি ছ’-সাত মাস অন্তর বাড়িও আসতেন। গত ১৫মে অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে শেষবারের মতো ফোন করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে পরিবারের সাথে কোনও প্রকার যোগাযোগ করেননি তিনি। পরিবারের তরফ থেকে ফোন করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

ছবি: শ্রীবাস ঘোষ।
শ্রীবাসবাবুর মা আরাধনাদেবী জানান, একদিন ফোন করে বলেছিল জোর বাতাস বইছে এখানকার পরিস্থিতি খুব খারাপ। জাহাজে জল ঢুকে গিয়েছে। তারপর থেকে আর কথা হয়নি এবং ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে ওর এক পিসতুতো দিদিকে ফোনে জানিয়েছিল, বাড়িতে কিছু না জানতে, আমাদের ক্যাপ্টেন জলে ঝাঁপ মারতে বলেছে। সকাল থেকে ফোন করে কোনও উত্তর মেলেনি।
বেহালার বাসিন্দা পিসতুতো বোন রাখী কীর্তনীয়াকে শ্রীবাসবাবু শেষ যে মেসেজ করেছিলেন তাতে তিনি লিখেছিলেন, অবস্থা খুব খারাপ। কী যে হবে? জাহাজে আগুন ধরে গিয়েছে, জল ঢুকে গিয়েছে। ঝড় থামছে না।জাহাজের সকলেই খুবই চিন্তিত।

ছবি: সজল বিশ্বাস।
অন্যদিকে সাইক্লোন ‘তাউত’ এর জাহাজডুবিতে নিখোঁজ নদীয়ার তেহট্টে বাঘাখালির ২৮ বছরের যুবক সজল বিশ্বাস। তিনি মুম্বাইয়ের ওএনজিসির এক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানাগেছে, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপরই ১৮ ই মে শেষ কথা হয় তার মায়ের সঙ্গে। ভিডিও কলে কথা বলেন তিনি।
ওই যুবকের মা ছন্দা বিশ্বাস জানান, সেইদিন ভিডিও কল করেছিল, দেখিয়েছিল সেদিনের দৃশ্য, বৃষ্টির ও ঝড় হচ্ছিল। তারপর থেকে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এরপরই গতকাল অর্থাৎ ২২ শে মে মুম্বাই থেকে ফোন আসে বাড়িতে। জানানো হয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মুম্বাইয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে। সেই মত রবিবার মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন বাবা। যদিও এখনো পর্যন্ত ঠিক কী ঘটেছে জানানো হয়নি পরিবারকে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিস জানায়, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি রাজ্যস্তরে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি খোঁজখবর নিয়েও দেখা হচ্ছে।

