পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৯ এপ্রিল: সাইবার প্রতারণায় জামাত যোগ। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কুমারগঞ্জ থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার হিমাচল প্রদেশ পুলিশের। শনিবার ধৃতদের সাত দিনের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলে হিমাচল প্রদেশ পুলিশের বিশেষ টিম।
পুলিশ ও আদালত সূত্রের খবর অনুযায়ী, ধৃত ওই দুই যুবকের নাম সেলিম ইসলাম এবং মঙলু দাস। বছর ২৩-এর যুবক সেলিমের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জের বেলতারা এলাকায়। ২০ বছর বয়সী মঙলু কুমারগঞ্জের পানিতারা এলাকার বাসিন্দা। ধৃত যুবকদের বেশ কিছুদিন আগে যোগাযোগ হয় জামাত গোষ্ঠীর সাথে। যেখান থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণও নেয় কুমারগঞ্জের ওই দুই যুবক বলে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ সূত্রের খবর। আর এরপরেই কুমারগঞ্জে বসে সাইবার প্রতারণার জাল বিছিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছিল ওই দুই যুবক বলে অভিযোগ। যে ঘটনা জানিয়ে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে হিমাচল প্রদেশের চম্বা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন অনুস্কা সিং নামে এক মহিলা।
তার অভিযোগ, ইনি ডেস্ক অ্যাপের মাধ্যমে তার ভাই রাহুল ছত্রওয়ালার অ্যাকাউন্ট থেকে ছয় লক্ষেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়। যে অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নামে চম্বা থানার সাইবার ক্রাইমের বিশেষ টিম। এরপর দীর্ঘ প্রায় আট মাস পর ওই সাইবার প্রতারকদের হদিশ পায় চম্বা থানার সাইবার টিম। শুক্রবার রাতে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বেলতারা ও পানিতারা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় হিমাচল প্রদেশ থেকে আসা পুলিশের ওই বিশেষ টিম। গ্রেফতার করা হয় ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে। শনিবার যাদের বালুরঘাট জেলা আদালতে পাঠিয়ে ট্রানজিট রিমান্ড নেয় হিমাচল প্রদেশের পুলিশ।
বালুরঘাট সদর ডিএসপি সোমনাথ ঝাঁ জানিয়েছেন, সাইবার প্রতারণা মামলায় ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে হিমাচল প্রদেশের পুলিশ। যাদের এদিন ট্রানজিট রিমান্ড নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির উপর তাদের সাইবার টিমও বিশেষ নজর রেখেছে। তবে জামাত যোগ প্রসঙ্গে ডিএসপি বলেন, পুরো বিষয়টি হিমাচল প্রদেশের পুলিশের অন্তর্গত একটি বিষয়। তাই যে ব্যাপারই থাকুক না কেন তারা তাদের মতো একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

