অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ৭ জুন: গোপীবল্লভপুরের মতো প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকারি প্রচেষ্টায় করোনা হাসপাতাল হলেও নেই পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলান্স পরিষেবা। তাই সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষেকে। তাছাড়া রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ গাড়ি ভাড়া করতে চাইলেও অনেক সময় ভাড়া পাওয়া যায় না রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেবার জন্য। এরকম একটি পরিস্থিতিতে গোপীবল্লভপুর এলাকার মানুষের মুশকিল আসান করতে অভিনব ভাবনার আশ্রয় নিলেন এলাকার দুই প্রাক্তন সেনা কর্মী। সম্পর্কে মাসতুতো দুই ভাই সত্যব্রত রাউত এবং মনিচাঁদ পানি নিজের বাইককে বানিয়ে ফেললেন আস্ত একটি অ্যাম্বুলান্স। দুই সেনা কর্মীর ইচ্ছা এই অ্যাম্বুলান্স পরিষেবা মিলবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। অ্যাম্বুলান্সটির মধ্যে রোগী শুয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেতরে রাখা যাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ঝোলানো যাবে সেলাইনের বোতল।

গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দা বছর ৫৭-র প্রাক্তন বিএসএফ জওয়ান সত্যব্রত রাউত পাঞ্জাবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে গোপীবল্লভপুর বাজার একটি জুতো দোকান চালান।
এই অ্যাম্বুলান্সের বিষয়ে সত্যব্রত বাবু জানান, এলাকার প্রচুর করোনা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যেতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের কথা ভেবে এই উদ্যোগ। অপরদিকে বছর ৪৫ এর প্রাক্তন সেনা কর্মী মনিচাঁদ পানি গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকে একটি সাইবার ক্যাফে চালান এখন। মনিচাঁদ পানি জানান, একটি বাইক অ্যাম্বুলান্স সরাসরি কেনার প্রচেষ্টা থাকলেও প্রচুর খরচের জন্য পিছিয়ে আসতে হয়। কিন্তু এলাকার এক টেকনিশিয়ানের দশ দিনের প্রচেষ্টায় এই অ্যাম্বুলান্স তৈরি হয়েছে। খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তবে দুই মাসতুতো ভাই প্রাক্তন দুই সেনা কর্মীর এই উদ্যোগে খুশি এলাকার মানুষ। ইতিমধ্যে দুই ভাই অ্যাম্বুলান্স চালিয়ে ট্রায়াল রান সেরে ফেলেছেন। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়।


