জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৪ জুলাই: ফের পাচারের আগে পুলিশ ও এসটিএফের তল্লাশীতে মাদক দ্রব্য সহ ধরা পড়ল দুই পাচারকারী। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে পানাগড় -মোরগ্রাম সড়কের ওপর কাঁকসার হাসপাতালমোড় সংলগ্ন আন্ডার পাসে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম সঞ্জিব ভক্ত নদিয়ার পলাশিপাড়ার বাসিন্দা, আর একজন বিধান বৈদ্য বাঁকুড়ার সোনামুখির ডিহিপাড়ার বাসিন্দা। রবিবার তাদের আসানসোল আদালতে তোলা বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে দেন।
ঘটনায় জানা গেছে, গোপনসুত্রে খবর পেয়ে রবিবার সকালে পানাগড়-মোরগ্রাম সড়কের কাঁকসা হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন আন্ডার পাসে হানা দেয় পুলিশ ও এসটিএফ। ওই সময় সূচনা অনুযায়ী বাস থেকে নামতেই সঞ্জিব ভক্ত ও বিধান বৈদ্য নামে দুই পাচারকারীকে আটক করে। তাদের ব্যাগ তল্লাশী করতেই বেরিয়ে আসে হেরোইন ও অ্যালপ্রাজোলাম নামে একটি নেশার ঔষধ।
পুলিশ জানিয়েছে প্রায় ৯৭০ গ্রাম হেরোইন, যার বাজার মূল্য কোটি টাকার ওপর। এছাড়া ১০২০ গ্রাম অ্যালপ্রাজোলাম উদ্ধার হয়েছে। এই নেশার ঔষধটি মূলত ঘুমের জন্য ব্যাবহৃত হয়। চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এটি দেওয়া হয় না। সম্ভবত হেরোইনর সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রির জন্য এটি নিয়ে যাচ্ছিল বলে অনুমান।
উল্লেখ্য, দু’দিন আগে অন্ডালে ১৯ নং জাতীয় সড়কের ভাদুর মোড়ে ১০ হাজার নিষিদ্ধ কাফ সিরাপসহ তিনজন ধরা পড়ে। সেগুলি আগ্রা থেকে বাংলাদেশে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল বলে অনুমান গয়েন্দাদের। মাদক পাচারে আসানসোল-দুর্গপুর ও কাঁকসা এই রুট পাচারকারীরা করিডর হিসাবে ব্যবহার করছে বলে পুলিশ প্রশাসনের অনুমান।
২০২১ সালের ডিসেম্বরের গোড়াতে কাঁকসার বনকাটির ১১ মাইল এলাকা থেকে প্রশান্ত রায় নামে এক মাদক পাচারকারী ধরা পড়ে। তার কাছ থেকে ২৬০ গ্রাম ব্রাউনসুগার উদ্ধার হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
তার আগে ওইবছরই গত ৫ নভেম্বর দুর্গাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে মনিরুল শেখ, নামে এক যুবককে প্রায় কোটি টাকার হেরোইন সহ গ্রেফতার করে পুলিশ। নদিয়ার পলাশিপাড়া থানা এলাকার বাসিন্দা মনিরুল শেখ উত্তরপ্রদেশ থেকে এই মাদক পাচারের উদেশ্য দুর্গাপুর স্টেশনে নেমেছিল। দুর্গাপুর ষ্টেশনে নামার পর সেখান থেকে বাস স্ট্যান্ডের পিছনের রাস্তা ধরে বাইরে বেরিয়ে আসছিল। ওই সময় পুলিশ তাকে আটক করে। তার কথায় অসঙ্গতি থাকায় পুলিশের সন্দেহ হয়। তল্লাশি করতেই তার কাছ থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়। তারপরই পুলিশ মনিরুলকে গ্রেফতার করে।
এছাড়াও ২০১৮ সালের আগষ্ট মাসে ২৮০ গ্রাম হেরোইন ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ তিনজন সুপারিকিলার ধরা পড়ে দুর্গাপুর বেনাচিতির উত্তরপল্লী এলাকায়। মাস কয়েক আগে ওড়িশা থেকে এরাজ্যে পাচারের আগে কোকওভেন থানার শ্যামপুর মোড় এলাকায় কয়েক লক্ষ টাকার গাঁজা সহ ধরা পড়ে পাচারকারীরা।
তারপর এদিনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়েছে শিল্পাঞ্চলজুড়ে। প্রশ্ন এখানেই, একের পর এক ঘটনায় মাদকপাচারকারীদের কি স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল?

