আমাদের ভারত, ২৪ জুলাই: গত বছর ডিসেম্বরে ডোমের চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল। হাসপাতালের শব-ঘর সংক্রান্ত কাজে অষ্টম উত্তীর্ন ৬ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আবেদন জমা পড়েছে প্রায় দু হাজার। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল সামান্য অষ্টম উত্তীর্ন চাকরির জন্য আবেদন দিয়েছেন এমবিএ, ইঞ্জিনিয়ার থেকে স্নাতকোত্তর।
২ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে পরীক্ষায় বসার জন্য ৭৮৪ জনকে বাছাই করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২৩ মার্চ পরীক্ষার দিন ঘোষণার পর তা বাতিল করে ১ আগষ্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলাছিল যে প্রার্থী ডোম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত কিংবা মর্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকবে তারা অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু ভিন্ন জাতির উচ্চশিক্ষিতদের ভিড়ে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ‘অতিযোগ্যরা’ সুযোগ পাননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দেশে এবং রাজ্য বেকারত্বের যে চেহারা তা আবারও প্রকট করল এই ঘটনা। সেন্টার ফর মনিটারিং ইন্ডিয়ান ইকনমিক্স (সিএমআইই) এর তথ্য অনুযায়ী গত মাস পর্যন্ত রাজ্যে বেকারত্বের হার ২২.১ শতাংশ। সেখানে কোভিডের পূর্বে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে যা ছিল ৪.৯ শতাংশ। প্রথম ঢেউয়ে লকডাউনে কাজ হারিয়েছে বহু মানুষ এবং এক মাসেই সে হার বেড়ে দাড়িয়েছিল ১৭.৪ শতাংশ। পরে তা সামান্য ওঠা নামা করতে থাকলেও চলতি বছরে মে মাসে হঠাৎ ১৯.৩ শতাংশে উঠেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন দশ বছরে তিনি ১ লক্ষ ১২ হাজার চাকরির ব্যবস্থা করেছেন অথচ তথ্য বলছে কাজের অভাবে রাজ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সেখানে, গত কাল পর্যন্ত দেশের বেকারত্ব হার হল ৭.৩ শতাংশ। গত বছর থেকে কম বেশি ওঠা নামার পর মে মাসে এই হার ডবল ডিজিটের ১১.৯০ শতাংশে পৌঁছলেও লকডাউন খোলার পর জুন মাসে ৯.১৭ শতাংশে নেমে যায়। প্রসঙ্গত, কোভিডের পূর্বে অর্থাৎ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেকারত্ব হার ছিল ৭.৪ শতাংশ।
মূলত দেশের অর্থনৈতিক দূরবস্থা কোভিড পূর্বে যা ছিল কোভিড এসে তাকে আরও দুঃসহ করে তুলেছে। অর্থনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞ মহলের মতে কোভিডের প্রথম ঢেউ থেকে দ্বিতীয় ঢেউই দেশের অর্থনীতিতে বেশি প্রভাব ফেলেছে। যেমন বহু প্রান কেড়েছে কোভিড তেমন কেড়েছে চাকরিও। তেমনি প্রভাবিত হয়েছে কৃষক এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও। সিএমআইই-র রিপোর্টে বলা হয়েছে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ প্রায় ১ কোটি মানুষের কাজ গেছে সঙ্গে ৯৫ শতাংশ পরিবারেরই আয় কমেছে।

