আমাদের ভারত, মালদা, ৯ জুন: বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে রাস্তা থেকে দুই বোনকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করল দুষ্কৃতীরা। দুই মেয়ের এই খবর জানতে পেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল মধ্যবয়স্ক মায়ের। মঙ্গলবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হবিবপুর থানার মঙ্গলপুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নিরলই গ্রামে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করলেই অপরজনের শ্লীলতাহানী করা হয়েছে। গণধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানীর ঘটনায় শৈলেন মাহাতো নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরো চারজন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ওই চারজনকে শনাক্তও করেছে পুলিশ। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে হবিবপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার আদিবাসী ওই দুই বোন বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছিল। রাত এগারোটা নাগাদ তারা নিমন্ত্রণ বাড়ি থেকে ফিরছিল। আত্মীয়স্বজনরা আগে চলে আসে। নির্জন রাস্তায় ওই দুই বোনকে একা পেয়ে পাঁচ দুষ্কৃতী তাদের মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি পুকুর পাড়ে ওই দুই বোনকে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এরপর বড় বোনকে দুই দুষ্কৃতী ধর্ষণ। ছোট বোনের চোখের সামনেই তার দিদিকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ছোট বোনকে কুপ্রস্তাব দিয়ে তাকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে গ্রামবাসীদের খবর দেয়া ওই কিশোরী। লাঠিসোটা নিয়ে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে গেলে অচৈতন্য অবস্থায় ওই কিশোরীকে পড়ে থাকতে দেখে। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাতেই পাঠানো হয় মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।
ঘটনার খবর শুনে ভেঙে পড়েন ওই দুই আদিবাসী বোনের গোটা পরিবার। বুধবার সকালে বড় মেয়েকে গণধর্ষণ এবং ছোট মেয়েকে শ্রীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনার অভিযোগ জানাতে থানায় যান পরিবারের লোকেরা। হবিবপুর থানাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই দুই কিশোরীর মা। তড়িঘড়ি তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মালদা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দুই কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছক কষে রেখেছিল দুষ্কৃতীরা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। রাতে দুই বোনকে ফাঁকা রাস্তায় পেয়ে কোলপাঁজা করে এবং মুখ বন্ধ করে তুলে নিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, দুই কিশোরীর মধ্যে একজনকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। দুইজন যুবক মিলে একজন কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে। অপর কিশোরীকে শারীরিক হেনস্থা এবং শ্রীলতাহানি করা হয়েছে। এই ঘটনায় শৈলেন মাহাতো নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে আরও চার জনের নাম জানতে পারা গিয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে হবিবপুর থানার পুলিশ। আপাতত গণধর্ষণের শিকার কিশোরীর মেডিকেল করানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখছে হবিবপুর থানার পুলিশ।

