চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ঘরে ফিরলেন দার্জিলিংয়ের দুই পড়ুয়া

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ৪ মার্চ: আকাশে বাতাসে বারুদের গন্ধ। চারিদিকে বোমা গুলির শব্দ। আবার মাইনাস ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেই পায়ে হেঁটে পেরোতে হয়েছে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা। রাত কেটেছে ঘন জঙ্গলে। তবুও হার না মানা মনোভাব নিয়ে এই সব প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে অবশেষে বাড়ি ফিরল দার্জিলিংয়ের দুই পড়ুয়া। তারা হলেন দার্জিলিংয়ের ভুটিয়া বস্তির বাসিন্দা কেলস্যাং গেয়াৎসো ভুটিয়া ও শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ির বাসিন্দা অলোক মিশ্রা। বাগডোগরা বিমানবন্দরে পা রেখে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ ছিলো স্পষ্ট। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যেন তারা নতুন জীবন পেয়ে ফিরল।

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ইউক্রেন গিয়েছিল লেখাপড়া করতে। কিন্তু বাধ সাধল যুদ্ধ। আর তাই মাঝপথেই ফিরতে হলো বাড়ি। তাও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরে আসতে হয়। একেই অচেনা দেশ, অচেনা পথঘাট। তার উপর বোমার বর্ষণে বিদ্ধস্ত গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র মনের জোরে একটানা সাত দিন ধরে গভীর জঙ্গল দিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পার করতে হয়েছিল পোলান্ড সীমান্ত। এর মধ্যে অভুক্তও কেটেছে অনেকদিন। প্রয়োজনীয় পানীয় জল মেলেনি। তবুও বাড়ির ফেরার নেশায় মরিয়া ছিলেন ওই দু’জন। আর তাই কঠিন পরিস্থিতিতেও হার না মেনে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারলো দার্জিলিং জেলার এই দুই পড়ুয়া। তবে তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ ছিলো স্পষ্ট।

এদিন বিমানবন্দরে অলোক মিশ্রা বলেন, “ইউক্রেনে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরেই তাদের দেশ ছাড়তে বলা হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতেই সমস্ত রকম পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। তাই পরে হাড়কাঁপানো শীতে গভীর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে তাদের পৌঁছাতে হয়েছিল পোল্যান্ড সীমান্তে। সেখান থেকে ভারতীয় দূতাবাসের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দিল্লি আসি। সেখান থেকে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় বাড়ি ফিরতে পারলাম।”

অন্যদিকে কেলস্যাং গেয়াৎসো ভুটিয়া বলেন, “পোল্যান্ডের তাপমাত্রা মাইনাস ৫ ডিগ্রি ছিল। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে গভীর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে টানা প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করে পৌঁছাতে হয়েছিল সীমান্তে। এই যাত্রাপথে সঙ্গে কোনো খাবার ও জলের ব্যবস্থা ছিল না। তাছাড়াও রাত কাটাতে হয়েছিল গভীর জঙ্গলেই। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি অতিক্রম করেই দেশে ফিরতে পেরেছি। এখনও ওই দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই আঁতকে উঠি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *