জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৭ মার্চ:
সোমবার সকালে ঘাটাল থানার খড়ারের এক গৃহস্থের বাড়ি থেকে দুটি পূর্ণবয়স্ক বিষধর সাপ উদ্ধার করেছে বনদপ্তর।
খড়ারের বাসিন্দা অরূপ পারিয়াল জানান, তার শোয়ার ঘরে বিছানার উপর দুটি পূর্ণ বয়স্ক খরিশ ও গোখরো সাপ পরস্পরের মধ্যে লড়াই করছে। ফনাধর দুটি মূর্হুমূর্হ পরস্পরের ওপর প্রবল আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। মনে হচ্ছিল জায়গার দখল নিয়ে এই দুটি সাপের মধ্যে লড়াই বেধেছিল। এভাবেই তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লড়াই চলেছে। পরে স্থানীয় মানুষদের ভিড় জমতে শুরু করে। চিৎকার-চেঁচামেচিতে বাড়ির ভেতরে থাকা একটি গর্তের মধ্যে সাপ দুটি ঢুকে যায়। খবর পাঠানো হয় বনদপ্তরের দাসপুরের সুলতাননগর বিট অফিসে। সেখান থেকে কর্মীরা এসে সাপ দুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
বনকর্মীদের মতে সাপ দুটি (Naja kaouthia, monocled cobra) কেউটে বা গোখরা প্রজাতির সাপ যা স্থানীয় ভাবে খরিস বলেও পরিচিত।
দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, সাধারণভাবে জুন জুলাই মাস সাপের মিলনের আদর্শ সময়। মেটিংয়ের সময় সাপেরা তর্জন গর্জন করে না। তারা একে অপরকে জড়িয়ে জননাঙ্গ প্রতিস্থাপন করে। কখনও দু’জনে মাটিতে জড়িয়ে থাকে আবার কখনও একে অপরের ভরে উঠে দাঁড়ায়। শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া বা ছাড়ার জন্য মৃদু হিসহিসানি শব্দ হয়। শীত কমে যাওয়ায় মাস খানেক হল শীতঘুম বা হাইবারনেশন (Hibernation) থেকে বেরিয়ে এসেছে সাপ। এই সময় খাওয়ার পাশাপাশি সাপেদের শরীরে প্রোটিনের চাহিদাও বেড়ে যায়। যে কারণে মারাত্মক হয়ে ওঠে সাপের দল। এই সময় নিজের বিচরণ এলাকা নিয়ে সাপ প্রতিষ্পর্ধী হয়েও উঠতে পারে।

