পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩১ আগস্ট: শহিদ প্রদ্যত স্মৃতি সদনের পূর্ণ প্রেক্ষা গৃহে তরুণ থিয়েটারের পরিচালনায় ৩০ আগস্ট মঞ্চস্থ হলো দুটি নাটক। এই দুটি নাটকের নাট্যকার ও নির্দেশক সুরজিৎ সেন। প্রথম নাটক: ফেসবুক ম্যারেজ। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বৈবাহিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই মজার নাটকটিতে অভিনয় করেন বিশ্বজিৎ কুন্ডু, পারভীন সুলতানা, তারাপদ দে ও হিমাদ্রি মন্ডল।প্রত্যেকের প্রাণবন্ত অভিনয়ে এই নাটকটি জমজমাট হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় নাটক মেদিনীপুরের মহিয়সী রমণী রানী
শিরোমণির সংগ্রামী জীবন ও আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে রচিত: বীরাঙ্গনা রানী শিরোমণি। ৬৮ জন কলাকুশলীর সমন্বয়ে নৃত্য, গীত ও অভিনয়ের যুগলবন্দিতে তরুণ থিয়েটারের এই প্রযোজনা উপস্থিত দর্শক মন্ডলীকে বিমোহিত করে রাখে। মুখ্য চরিত্রে রূপদান করেন দীপশিখা চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ কুন্ডু, হিমাদ্রী মন্ডল, শান্তি দত্ত, অনুপম চন্দ, মলয় রথ, অরুণাভ প্রহরাজ, জয় রায়, সুমন্ত হোর, তাপসী দে, অভিজিৎ দে, দয়াময় প্রামাণিক, হেদয়াতুর খান, শুভ্রানসু সামন্ত, সুদীপ্তা দে, মধুমিতা শীল, তারাপদ দে প্রমুখ। তরুণ থিয়েটারের এই দুই অনবদ্য নাট্য প্রযোজনা সারা মেদিনীপুর শহরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে “মেদিনীপুরের লক্ষীবাঈ” নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়েছে। শিল্পীদের মধ্যে অধ্যাবসায় নিষ্ঠা সবার মন কাড়ে। প্রাণকে বাজি রেখে মেদিনীপুরের যোদ্ধাদের অসম যুদ্ধে সামিল হওয়ার যে ইতিহাস তা অনেকটাই আবছা হয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে, সেই ইতিহাসকে পুনরুদ্ধারে ব্রতী হয়েছেন তরুণ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত কলা কুশলী ও পরিচালকরা। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের সময়কালে মেদিনীপুরের যে ইতিহাস, যা অনেকেরই অজানা, যা আমাদের গর্বের ইতিহাস, তা আমাদের গোচরে আনার যে প্রয়াস তার জন্য তরুণ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। ৭৪ জন শিল্পীর অভিনয় সবাইকে মুগ্ধ করবে। লেখক পরিচালক কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানাই।

