সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৭ জুলাই: নদীতে দুই যুবককে ডুবে যেতে দেখে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে তলিয়ে গেল দুই ব্যক্তি। সন্ধে পৰ্যন্ত তাদের খোঁজ মেলেনি। আজ দুপুরে মেজিয়া থানার তেঘরিয়া গ্রামের কাছে গাইঘাটা জোড়ে এই ঘটনা ঘটে। ঘাটে স্নান করত গিয়ে দুই যুবককে তলিয়ে যেতে দেখে জোড়ের অপর পাড়ে থাকা দুই ব্যক্তি তাদেরকে বাঁচাতে গিয়ে জলে ঝাঁপ দেন। এদিকে ডুবন্ত দুই যুবক প্রাণ নিয়ে পাড়ে উঠে এলেও ওই দুই ব্যক্তিই ভরা নদীর জলে তলিয়ে যান। সন্ধে পর্যন্ত বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা তল্লাশি চালিয়েও তলিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তির সন্ধান করতে পারেননি।
পুলিশ সূত্ৰে জানা গেছে, নিখোঁজ দুই ব্যক্তির নাম সঞ্জয় বাউরি (৪০) ও লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল (৩২)। দু’জনেরই বাড়ি তেঘরিয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গাইঘাটা জোড় তেঘরিয়া ও খয়েরবনি গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে খয়েরবনি গ্রামের দুই যুবক তেঘরিয়া ঘাটের অপর পাড়ের ঘাটে স্নান করতে নামেন। বর্ষায় দুকূল ছাপানো জল বইছে জোড়ের উপর দিয়ে। যেখানে স্নানঘাট তার পাশেই খাল কেটে বাঁধন দিয়ে জল আটকে রাখা হয় শীতের সময় থেকে বর্ষার আগে পর্যন্ত। তার জন্য মাটি পাথর দেওয়া হয়। বর্ষায় সেই বাঁধন ভেঙ্গে গিয়েছে। স্নান করতে নেমে পাথরে পিছলে এক যুবক খালে পড়ে গিয়ে হাবুডুবু খেতে থাকেন। অপর যুবক বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকেন। উল্টোদিকে তেঘরিয়া ঘাটে তখন সঞ্জয় বাউরি ও লক্ষীকান্ত মন্ডল স্নান করছিলেন। ওই যুবককে ডুবে যেতে দেখে তারা দুজনে জলে নেমে সাঁতার কেটে অপর পাড়ে আসতে থাকেন। ডুবন্ত যুবক কোনও রকমে পাড়ে উঠে আসেন। ততক্ষণে জলের তোড়ে সঞ্জয় বাউরি ও লক্ষীকান্ত মন্ডল তলিয়ে যান।

এরপর দীর্ঘক্ষণ তাদের হদিস না মেলায় খবর দেওয়া হয় মেজিয়া থানায়। ততক্ষণে দুই গ্রামের দুই পাড়ে প্রচুর লোকজন এসে জড়ো হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই পাড়েই কান্নার রোল ওঠে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তারাই খবর দেয় বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের কাছে। বাঁকুড়া থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা এসে তল্লাশি শুরু করেন। সন্ধে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত তল্লাশি চালালেও নিখোঁজ দুই ব্যক্তির খোঁজ মেলেনি।

