বেলঘরিয়া ও ব্যারাকপুর থেকে হিমাচল প্রদেশ ট্রেকিং করতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই পর্বতারোহীর

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৭ সেপ্টেম্বর:
বেলঘরিয়া ও ব্যারাকপুর থেকে হিমাচল প্রদেশ ট্রেকিং করতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই পর্বতারোহী সন্দীপ কুমার ঠাকুরতা এবং ভাস্কর কুমার মুখার্জি। প্রাণ হারিয়েছেন গত ২৪ সেপ্টেম্বর। নেটওয়ার্কের অভাবে সেই খবর এসে পৌঁছায় সোমবার। 

বেলঘড়িয়া রাইফেল রেঞ্জ রোডের বাসিন্দা সন্দীপ কুমার ঠাকুরতা ও তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর হিমাচল প্রদেশ জান ট্রেকিং করতে এরই মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। যদিও সে খবর সময় মত পৌঁছায়নি সন্দীপের বাড়ির লোকের কাছে। আজ সকালে হিমাচল থেকে ফোন মারফত খবর দেওয়া হয় যে খারাপ আবহাওয়ার জন্য অক্সিজেন জনিত সমস্যায় মৃত্যু হয়েছে সন্দীপ ও তার সঙ্গী পর্বতারোহী ব্যারাকপুর নোনা চন্দনপুকুরের বাসিন্দা ভাস্কর দেব মুখার্জির। ঘটনার খবর পেতেই পরিবারসহ অঞ্চলজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ওপর দিকে ব্যারাকপুর আনন্দ পুরী মিডিল রোডে সানরাইজ অ্যাপার্মেন্টে বাস করতেন ৬১ ঊর্ধ্ব ভাস্কর দেব মুখার্জি। এর আগেও বহুবার পাহাড়ের নেশায় ট্রেকিং করে বেড়িয়েছেন। কিন্তু এই বার আর ট্রেকিং করে ফেরা হল না তার।

সন্দীপবাবু ও ভাস্করবাবু সহ ১০ জনের একটি টিম হিমাচল প্রদেশের মানালি হয়ে থামিঙ্গায় ট্রাকিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন ১১ সেপ্টেম্বর। তাদের পাহাড়ে যাওয়ার উদ্যেশ্য ছিল পর্বতারোহণ করা। সেখানে গিয়ে ট্রেকিং করে ফেরার সময় শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন তিনি ও তাঁর সঙ্গী সন্দীপবাবু। তার থেকেই মৃত্যু বলে জানানো হয়েছে। ২৪ তারিখ তারা মারা গেলেও নেটওয়ার্ক না থাকায় ট্রেকিংয়ের পথ শেষ করে কাজাতে পৌঁছে নেটওয়ার্ক পাওয়ার পর তাদের বাড়িতে খবর দেন সন্দীপ ও ভাস্করবাবুর টিম মেম্বাররা।

এর মধ্যেই বেলঘরিয়া বাসিন্দা সন্দীপবাবুর মা মারা গিয়েছেন যার খবর ও তিনি জানতেন না বলে পরিবারের বক্তব্য। এই ঘটনায় সন্দীপ বাবুর স্ত্রী, বাবা ও তাঁর ছেলে ভেঙ্গে পড়েছেন। এই দুই পরিবারের আত্মীয়দের আবেদন, সরকার যাতে দ্রুত মৃতদেহগুলি হিমাচল থেকে ফিরিয়ে আনেন। ভাস্করবাবুর স্ত্রী যিনি পেশায় স্কুল শিক্ষিকা তিনিও একই আবেদন রেখেছেন সরকারের কাছে। ২৫ থেকে ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্বেও কেন এক ঘটনা ঘটল তা নিয়েও চিন্তিত মৃতদের আত্মীয় পরিজনেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *