সায়েন্টিফিক মডেল কম্পিটিশনে রামপুরহাট কলেজের ভূগোল বিভাগের দুটি মডেল আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ড পেল

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১১ জানুয়ারি: সায়েন্টিফিক মডেল কম্পিটিশনে রামপুরহাট কলেজের ভূগোল বিভাগের দুটি মডেল আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ড পেল। আঞ্চলিক বিজ্ঞান কংগ্রেসে দুটি পুরস্কার ছিনিয়ে আনায় খুশি রামপুরহাট কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে অধ্যাপক অধ্যাপিকারা।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও কারিগরি দপ্তর এবং বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ৯-১০ জানুয়ারি দুদিনের পঞ্চম আঞ্চলিক বিজ্ঞান কংগ্রেস বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রামপুরহাট কলেজের ভূগোল বিভাগ সায়েন্টিফিক মডেল কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেছিল। ভূগোল বিভাগ থেকে সুপ্রীতি মণ্ডল, সামিউল হক, হিয়াশ্রী দাস, তৌফিক হাসান, সুপর্ণা মল্লিক, অঙ্কিতা মণ্ডল, বৃষ্টি মণ্ডল এবং শুভ মণ্ডল অংশগ্রহণ করেছিল। মডেল তৈরির তত্ত্বাবধানে ছিলেন ভূগোল বিভাগের দু’জন অধ্যাপক ডক্টর জয়ন্ত দাস এবং প্রফেসর আশরাফুল আলম। মডেলের বিষয়বস্তু ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রামপুরহাট কলেজ কিভাবে শক্তি ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি মডেল ছিল চিরাচরিত শক্তির পরিবর্তে বায়ু শক্তি কিভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব ফেলে। এই দুটি মডেল বিচারক মন্ডলীদের বিচারে আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে ট্রফি, নগদ পাঁচ হাজার টাকা তাদের দেওয়া হয়েছে বলে কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামীতে রামপুরহাট কলেজ সায়েন্স সিটিতে অনুষ্ঠিত স্টেট সায়েন্স কংগ্রেসে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছে।

ভূগোল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আশরাফুল আলম জানান, আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা চারটি সায়েন্টিফিক মডেল নিয়ে এসেছিল। তার মধ্যে দুটি পুরস্কৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “ভৌগলিক জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য অগ্নুৎপাতের ওপর একটি মডেল বানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বনির্ভর গ্রুপের মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব। এবিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাহায্য প্রয়োজন”।

অধ্যাপক ডক্টর জয়ন্ত দাস বলেন, “ভারতবর্ষের যেভাবে জনবিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে তাতে জল এবং শক্তির সহনশীল সংরক্ষণ আশু প্রয়োজন। ২০২২ সালে রামপুরহাট কলেজ ৯৪৮১ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। যদি পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎ এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে তাহলে বার্ষিক ১০০ কোটি টাকার অধিক আয় করা সম্ভব। সেই বিষয়টি মডেলে তুলে ধরা হয়েছিল”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *