সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৭ মার্চ:
রবিবার বাঁকুড়া জেলার সুরভূম তিলি সমাজের ১৪ তম বার্ষিক সম্মেলনে একই মঞ্চে হাজির রাজ্যের যুযুধান দুই রাজনৈতিক দলের বিধায়ক। বেলিয়াতোড় থানার গোপীনাথপুরে আয়োজিত সম্মেলনে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলা থেকে এই তিলি সম্প্রদায়ের প্রথম এবং রাজ্য বিধানসভার একমাত্র বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। তিনি বিজেপির টিকিটে জিতে বাঁকুড়া বিধানসভা থেকে নির্বাচিত হন। মাত্র ১ টি চেয়ারের পাশে ছিলেন বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অলক মুখার্জি। বর্তমানে এ রাজ্যে কোনো সামাজিক মঞ্চে এ দৃশ্য বিরল। অদ্ভুত এই সহাবস্থান দেখাতে সক্ষম হলেন সুরভূম তিলি সমাজের কর্তারা। তবে দুই বিধায়কের মধ্যে একটি বাক্যও বিনিময় করতে দেখা গেল না। ছিলেন জেলা তৃণমূলের আরেক দাপুটে নেতা এবং তিলি সমাজের একজন অন্যতম মুখ নিমাই মাজি, আইনজীবী অরূপ শিট। দুই বিধায়ককে পাশে বসিয়ে এই মঞ্চ থেকে ফের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মতো তিলি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার জোরালো আবেদন জানান উদ্যেক্তারা।
সংগঠনের সভাপতি সমরেশ মাজি ও সম্পাদক পরেশনাথ লায়েক বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের সম্প্রদায় গর্ব করে বলতে পারে যে আমরা শত দুঃখ কষ্টের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করলেও জেলার অন্যান্য সম্প্রদায় ভুক্তদের অপেক্ষা উচ্চশিক্ষার হারে প্রথম সারিতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে। এর মূল কারণ জাতিগত সংরক্ষণ বিধি। মূলত কৃষি কাজই আমাদের প্রধান জীবিকা।
তিলি সমাজের জেলা সম্পাদক দুর্গাদাস মন্ডল বলেন, তিলি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ যদি ওবিসি তালিকাভুক্ত হতেন তাহলে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সুযোগ পেতেন এবং এক্ষেত্রেও আমরা সর্বাগ্রে থাকতাম। তাই আমরা এই সম্মেলন থেকে পশ্চিমবঙ্গ তিলি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার জন্য জোরালো আবেদন রাখছি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এখনও পর্যন্ত অনেক চিঠি চাপাটি করেছি কিন্তু কোনো সদর্থক পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
এই সম্মেলন উপলক্ষ্যে সুরভূমের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে উপহার, শংসাপত্র দেওয়া হয়।পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি রক্তদান শিবিরেরও আয়োজন করা হয়। মাধ্যমিকে যারা ৭৫ % ও উচ্চমাধ্যমিকে ৮০ % বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে সে রকম ২০০ ছাত্র-ছাত্রীকে সম্বর্ধনা, উপহার দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, ওবিসি তালিকা ভুক্ত করার জন্য বিধানসভায় দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমস্ত কাগজ পত্র জমা করব। অলক মুখার্জিও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আলোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

