আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৩ সেপ্টেম্বর: ধুপগুড়ি উপনির্বাচনের আগে বড়সড় ধাক্কা খেলো রাজ্যের শাসক দল। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতে উপস্থিত থেকেও রবিবার সকালে বিজেপিতে যোগদান করলেন প্রাক্তন বিধায়ক মিতালী রায়। ৫ সেপ্টেম্বর ধুপগুড়িতে উপনির্বাচন, তার আগে তৃণমূলের এই ধাক্কায় বিজেপি লাভবান হলো বলেই মনে করা হচ্ছে। আজ সুকান্ত মজুমদারভ তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন
শনিবার ধুপগুড়িতে সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভাতে উপস্থিত ছিলেন মিতালী রায়। সেখানে তিনি তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানান। কিন্তু আজ হঠাৎ দলবদল করে যোগ দিলেন বিজেপিতে। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের সময় ধুপগুড়ি কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিলেন মিতালী রায়। ২০২১-এ তাকে দল টিকিট দেয়। কিন্তু বিজেপির বিষ্ণুপদ রায়ের কাছে পরাজিত হন তিনি। বিষ্ণুপদবাবুর মৃত্যুতে ধুপগুড়ি উপনির্বাচনে আর তাকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। তার বদলে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন নির্মল চন্দ্র রায়।
জানা যাচ্ছে, টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন মিতালী রায়। বারবার অভিযোগ করেছিলেন একুশের ভোটের হারের পর থেকে দলের কাছে তিনি ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন। শোনা গেছে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মিতালীর ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো অভিষেকের সভায় উপস্থিত থেকেও আজ আচমকাই সোজা বিজেপির কার্যালয়ে গিয়ে পদ্মের পতাকা হাতে তুলে নিলেন তিনি।
ধুপগুড়ির নেতাজি পাড়াতে বিজেপির যে দলীয় কার্যালয়ে রয়েছে সেখানেই আজ যান মিতালী দেবী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন তিনি।
দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিতালী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি লড়াইয়ের মানুষ, কামতাপুরি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। লড়াইয়ে থাকতে ভালোবাসি। তৃণমূলে কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। আমার মত একজন রাজবংশী মানুষকে যদি ব্যবহার করতে না পারে, সেটা দল বুঝবে। আমি ঘরে কেন বসে থাকবো?
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মিতালী রায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন। আন্দোলন করেছেন। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।”
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহা বলেন, গতকাল মিতালী রায় মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করার আবেদন জানিয়েছেন। এখন যদি তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন তাহলে তিনি কি বলেন সেটা শোনার অপেক্ষায় আমরা আছি।
মিতালীর যোগদানকে বড় বিষয় এবং এতে বিজেপি লাভবান হবে বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি তৃণমূলে কাজ করতে পারছিলেন না মিতালীদেবী, তাই এই দল বদল। তাঁর আরো দাবি, এই দলবদলের ফলে রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক আরো সুরক্ষিত হল বিজেপির।

