দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট জরায়ু কেটে দুটি যমজ সন্তান প্রসব, বিরল ঘটনা শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৫ জুলাই: দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট জরায়ু কেটে দুটি যমজ সন্তান প্রসব! এ ধরনের ঘটনা বিরলই শুধু নয় যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। শান্তিপুর হাসপাতালে পরিকাঠামো অনুযায়ী, গাইনোকোলজিস্ট বিভাগের ডক্টর পবিত্র ব্যাপারী এই অস্ত্রোপচার করলেন।

পলাশীপাড়ার হাসিবুল শেখের স্ত্রী মামনি বিবিকে ভর্তি করা হয়েছিল, শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট বিভাগে। ডাক্তার পবিত্র ব্যাপারী জানান, মামনি বিবির প্রথমে দুটো সন্তান নষ্ট হয়। গর্ভপাত হয়েছিল। তারপর তার তিন চার বছর বাচ্চা আসছিল না। আমরা রিপোর্ট আসার পর জানতে পারি যে তার জরায়ুতে দুটো প্রকোষ্ঠ। অর্থাৎ দুটো ক্যাভিটি সিঙ্গেল সার্ভিস। দেখা যায় যে ওই মহিলার দুটো প্রকোষ্ঠে দুটো বাচ্চা অর্থাৎ টুইন প্রেগন্যান্সি। তাকে আজ সিজার করা হয়। দুটো বাচ্চাই ভালো আছে। প্রথম বাচ্চাটি মেয়ে সন্তান আর দ্বিতীয় বাচ্চাটি পুত্র সন্তান হয়।

প্রথমটির ওজন ২.৩২০ গ্রাম এবং দ্বিতীয়টির ওজন ২.৫০ গ্রাম। এই রোগীর বাচ্চা আসছিল না বলে প্রথম থেকেই আমার কাছে দেখাতেন। আমিও নিজে খুব উত্তেজিত ছিলাম কারণ জরায়ু দুই প্রকোষ্ঠের। এই ধরনের ঘটনা আমার চিকিৎসা জীবনে প্রথম। আমরা সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় সিঙ্গেল প্রেগনেন্সি পেয়ে থাকি কিন্তু আমরা বিভিন্ন মেডিকেল সায়েন্সের জার্নাল ও গুগুল সার্চ করে দেখি এর আগে পৃথিবীজুড়ে ১৬ টা কেস এরকম টুইন প্রেগন্যান্সি উইথ বাইকোরনেট ইউটেরাস ইউনিকর্ন সার্ভিস রিপোর্ট রয়েছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে সত্যিই এটা একটা আমাদের নতুন সাফল্য হতে পারে। সেই কারণে আমি পলাশীপাড়া থেকে ওই রোগীকে এখানে আসতে বলেছিলাম। ওরা খুব গরিব। ওদের পক্ষে প্রাইভেটে খরচ করা সম্ভব ছিল না। আমি শান্তিপুর হাসপাতালে আমাদের সুপার তারক বর্মন স্যার সহ সমস্ত ডাক্তার এবং নার্সদের সঙ্গে কথা বলে আমরা তাকে এখানে নিয়ে আসি। আমরা একটু আগে ওটি করলাম। মা বাচ্চা দুজনেই ভালো আছে। আশা করি সুস্থ থাকবে। আমাদের শান্তিপুর হসপাতালের সমস্ত স্টাফ বিশেষ করে মেটারনিটি ওয়ার্ডের স্টাফ, ওটির স্টাফ, সবার সহযোগিতা পেয়েছি।”

যমজ দুই সন্তানের পিতা হাসিবুল শেখ জানান, পলাশী পাড়ায় একটি বেসরকারি সংস্থায় চিকিৎসারত অবস্থায় দু’বার তার সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে, সন্তানের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মতই শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে আসা। না হলে আমাদের মতন গরিব মানুষের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা করা সম্ভব হতো না। ডাক্তারবাবু আমাদের কাছে আল্লাহর দূত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *