সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৭ আগস্ট: এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল দুই বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে। আর এই নিয়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে পথে নামল তৃণমূল। ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার রণঘাট এলাকার।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাংলাদেশি গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই বিএসএফের দুই জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে বাগদা থানার পুলিশ। ধৃতদের শনিবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর দুই জওয়ানের হাতে এক মহিলা গণধর্ষিতা হওয়ার ঘটনার জেরে শনিবার ঘটনাস্থলে যান বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। বিএসএফের দুই কর্মীর এহেন আচরণে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন বিধায়ক। পাশাপাশি, গোটা বিষয়টি তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বাগদা থানার রনঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিজের ২ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন এক মহিলা। বসিরহাট এলাকার বাসিন্দা বছর ২৩ এর ওই মহিলা ওই সময় সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানদের নজরে পরে যান। অভিযোগ, বিএসএফের ৬৮ নম্বর ব্যাটালিয়ানের এসআই এসপি চেরো এবং কনস্টেবল আলতাফ হোসেন এরপর ওই মহিলাকে পাশের একটি পটলখেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। ঘটনার পর নির্যাতিতা ওই মহিলা কোনওরকমে লোকালয়ে এসে আশ্রয় নেন এবং গ্রামবাসীদের গোটা ঘটনা জানান। এই ঘটনায় ওই এলাকায় বিএসএফের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরপর অত্যাচারিতা এই মহিলা শুক্রবার রাতে বাগদা থানায় দুই বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বাগদা থানার পুলিশ অভিযুক্ত ওই দুই বিএসএফ জওয়ানকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে। শনিবার ধৃতদের বনগাঁ আদালতে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এদিন বাগদায় যান পুলিশ সুপার তরুণ হালদার।

এদিকে, বিএসএফের এই অমানবিক আচরণের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় শনিবার এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে যান বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। এলাকা ঘুরে পরে গোটা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যেই বিএসএফ এমন ধরনের অত্যাচার করছে। তাই তাদের এলাকা বাড়িয়ে ৫০ কিলোমাটার করা হলে বিএস এফের অত্যাচারের শিকার হবেন আরও বেশি সাধারণ মানু্ষ। দলের নির্দেশমতো প্রয়োজনে বিএসএফের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা হবে বলে এদিন বিধায়ক জানান।
যদিও বিজেপির বনগাঁ সাংগঠিক সাধারণ সম্পাদক দেবদস মণ্ডল বলেন, বিএসএফের দুই কর্মী যে অন্যায় করেছে তার জন্য পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। বিএসএফের আধিকারিক ইতিমধ্যে ওই দুই অভিযুক্তকে বরখাস্ত করেছে। তৃণমূল ঘোলাজলে মাছ ধরছে। এই নিয়ে রাজনীতি করছে। দেশে আইন আছে পুলিশ আছে এই অন্যায়কে বিজেপি কখনও মেনে নেবে না। তবে এই নিয়ে রাজনীতি করা মুর্খামির পরিচয়।

