আদ্রায় তৃণমূল নেতার প্রাণ যাওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার দুই, তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ কংগ্রেসের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৩ জুন: ঘটনার তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে এই মন্তব্যের সঙ্গে সিবিআই তদন্তের দাবি করলেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো।

তদন্তের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা ব্যবসায়ী ধনঞ্জয় চৌবে খুনে গ্রেপ্তার হয় দুই জন। ধৃতের মধ্যে একজন কুখ্যাত দুষ্কৃতী মহম্মদ জামাল। অপরজন তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত আরশাদ হোসেন। পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিল সে। আর এই তথ্য নিয়েই সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। বিরোধীদের দিকেই অভিযোগের তির ছোঁড়েন তিনি। আজ ভোর থেজপই তৃণমূল নেতা কর্মীরা আদ্রার বিভিন্ন রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। অভিযুক্তরা গ্রেফতার হতেই অবরোধ তুলে নেন তৃণমূল কর্মীরা। তবে দিনের শেষে থমথমে থাকে রেল শহর আদ্রা।

ভরসন্ধেয় দাপুটে নেতাকে গুলিতে ঝাঁজরা করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকে শোরগোল আদ্রায়। রাতেই মহম্মদ জামাল ও আরশাদ হোসেনের নামে পুলিশে লিখিত অভিযোগ করে মৃতের পরিবার। শুরু হয় তল্লাশি। গতকাল সন্ধে থেকে পুরুলিয়ার সবকটি নাকা পয়েন্টে চেকিং চালানো হয়। আনা হয় স্নিফার ডগ। দীর্ঘ তল্লাশির পর শুক্রবার ভোরে গ্রেফতার করা হয় মহোম্মদ জামাল ও আরশাদকে। এই প্রথম নয়। এর আগে একাধিক খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে আদ্রার বেনিয়াশোলের বাসিন্দা জামালের। সুপারি কিলার হিসেবে কাজ করে জামাল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে আদ্রার চুনাভাট্টি এলাকার বাসিন্দা আরশাদ। তাঁকে বিভিন্ন সময়ে দেখা গিয়েছে জামালের সঙ্গে। এবছর পঞ্চায়েত ভোটে কাশীপুর ব্লকের বেকো গ্রাম পঞ্চায়েতের চুনাভাট্টি এলাকায় কংগ্রেসের হয়ে মনোনয়ন জমা করেছিল সে। তবে কি রাজনৈতিক অশান্তিতেই প্রাণহানি? তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মৃতের দাদা আনন্দ চৌবে জানান, গত বুধবার আদ্রায় কংগ্রেসের একটি কর্মসূচি ছিল। সেখানে আরশাদ অভিযোগ করেছিল, ধনঞ্জয় চৌবে নাকি তাঁদের মনোনয়ন জমা দিতে দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে তাঁকে রাজনৈতিভাবে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। সেই কারণেই খুনের ঘটনায় প্রথমেই আরশাদের উপর সন্দেহ হয় তাঁর। সেই সঙ্গে নাম জড়ায় তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামালের। ওই দুজন ছাড়াও আরও দুইজনের নামে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

তবে এই খুনের নেপথ্যে কি সত্যিই রাজনীতি? নাকি এর সঙ্গে যোগ রয়েছে সিন্ডিকেট বা ব্যবসা? নাকি পুরনো কোনও শত্রুতার জেরে প্রাণ গেল ধনঞ্জয় চৌবের, তা এখনও পুরোটাই রহস্য। আর এই রহস্য ভেদের চেষ্টায় পুলিশ। ফুল ও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া আবার বললেন এই হত্যার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক শত্রুতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *