তারকেশ্বরের উন্নয়নের সুফলকে হাতিয়ার করে ভোটের ফসল ঘরে তুলতে মরিয়া শাসক বিরোধী দুই শিবির

আমাদের ভারত, হুগলী, ২৪ ফেব্রুয়ারি: ভোটের প্রচার জমে উঠতেই শৈবতীর্থ তারকেশ্বরে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। তারকেশ্বর পুরসভায় রয়েছে মোট ১৫টা ওয়ার্ড। ২০১৫ সালে তারকেশ্বর পুসভা বিরোধী শুন্য হয়েছিল। অর্থাৎ তৃণমূল ১৫টা ওয়ার্ডে মধ্যে ১৫ টাতেই জিতেছিল।
এই পুরসভায় এবার তৃণমূলের নতুন মুখ ন’টা।এদের মধ্যে বেশির ভাগই মহিলা প্রার্থী হয়েছেন। এই পুরসভায় তৃণমূলের কোনও নির্দল কাঁটা নেই। ফলে কোনও ক্ষোভ কিম্বা বিক্ষোভও নেই।

লোকসভা ভোটের নিরিখে তারকেশ্বর পুসভায় একটি মাত্র ওয়ার্ডে বিরোধীরা এগিয়েছিল। বাকি সব কটি ওয়ার্ডেই তৃণমূল এগিয়েছিল। বিধানসভা ভোটেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। চলতি পুরসভায় মানুষ কেন তৃণমূলকে ভোট দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তারকেশ্বর পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান স্বপন সামন্ত বলেন, ৬০ কোটি টাকা ব্যায়ে শহরজুড়ে ড্রেনেজ সিস্টেমের কাজ চলছে। পিডব্লুডির ৫৬ কোটি টাকা সহযোগীতায় তারকেশ্বর পুরসভা এলাকায় যানজট কাটাতে ফোর লেনের রাস্তার কাজ চলছে। ১৭ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় গরিব মানুষদের বাড়ি দেওয়ার কাজ হচ্ছে। ১২ কোটি টাকায় তারকেশ্বরের দুধপুকুরকে স্বর্ণমন্দিরের আদলে তৈরি করার টেন্ডার হয়েছে। ৪ কোটি টাকা খরচ করে ৫ টা পুকুর সংস্কার করা হচ্ছে। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে তারকেশ্বর মন্দিরের উন্নয়নে বিরাট কর্মযজ্ঞ হয়েছে। পুরসভা এলাকায় ৫ হাজার লাইট লাগানো হয়েছে। পুর এলাকায় কোথাও কোনও মাটির রাস্তা নেই। তবে সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলি হল, তারকেশ্বর পুরসভা এলাকায় একটি স্বাস্থকেন্দ্রের পরিসেবা আরও বাড়ানোর কাজ চলছে।

তারকেশ্বর পুরসভার সিপিএম প্রার্থী মুকুল ঘোষ বলেন, তারকেশ্বরে যা উন্নয়ন হয়েছে সবটাই বাম আমলে হয়েছে। একটা মানুষকে বেঁচে থাকতে গেলে খেতে হবে, স্নান করতে হবে। এটাকে আবার কাজ বলে নাকি? এটা প্রাথমিক শর্ত। এটা করতেই হবে।

মুকুল বাবু বলেন, বাম আমলে তারকেশ্বরে বিদ্যাসাগর ভবন তৈরি হয়েছে। তারপর এক দানা বালির কাজও শাসক দল করেনি। জয়কৃষ্ণ বাজারে আমরা সুইমিংপুল তৈরি করেছিলাম। সেটা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।
আমাদের আমলে তারকেশ্বরে দুটো বাসস্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। সেই বাসস্ট্যান্ডের কোনও উন্নয়ন হয়নি। উলটে সেখান থেকে সাইকেল গ্যারেজ বিক্রি করে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় তৈরির জন্যে আমরা ১১নম্বর ওয়ার্ডের খালের পাড়ে জমি কিনেছিলাম। কিন্তু সেই জমিতে গরিব মানুষদের ঘর দেবে বলেছিল। সেটাও ইনকমপ্লিট হয়ে পড়ে আছে। পুরসভায় কুড়ি গুণ পর্যন্ত ট্যাক্স বাড়িয়েছে। ভয়ঙ্কর ভাবে ট্রেড লাইসেন্সের ফি বাড়িয়েছে। তারকেশ্বরে মূল নিকাশির ড্রেন ছিল দশফুট। সেটাকে কমিয়ে ছয় ফুট করে দিয়েছে। এটা উন্নয়ন?
সুতরাং মানুষ বামপন্থীদেরই ভোট দেবেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *