আইনি রক্ষাকবচ কেড়ে নেওয়া হল! টুটারের বিরুদ্ধে এফআইআর

আমাদের ভারত, ১৬ জুন : নয়া তথ্য প্রযুক্তি আইনের শর্ত পূরণ না করায় টুইটারের ওপর ক্ষুব্ধ দেশের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক। সোশ্যালমিডিয়া কোম্পানি হিসাবে টুইটার ভারতে ‘মধ্যস্থাকারী’ মর্যাদা খোয়ালো বলে জানা গেছে। নতুন আইনের শর্ত অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত ভাবে একজন চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার নিয়োগ করছে না ট্যুইটার বলেও মন্তব্য কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের।

প্রসঙ্গত, ২৬ মে থেকে দেশে লাগু হওয়া নয়া তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং টুইটারের ‘ম্যানিপুলেটেড মিডিয়া’ মন্তব্যকে ঘিরে ট্যুইটারের সঙ্গে কেন্দ্রের বিবাদ চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এই সূত্রেই টুইটারকে বহুবার নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এমনকি এর মধ্যেই ডেকে পাঠানো হয় টুইটারকে। অবশেষে টুইটার এই আইন মানতে সম্মত হয় এবং আইনের শর্ত পুরণেরও আশ্বাস দেয় সরকারকে।কেন্দ্রের অভিযোগ, অতিরিক্ত সময় দেওয়ার পরও শর্ত অনুযায়ী একজন চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসারকে নিয়োগ করেনি টুইটার এবং অন্যান্য শর্তগুলি রূপায়ণ করেনি। তাই টুইটারের সোশ্যালমিডিয়া মধ্যস্থাকারী কোম্পানি হিসাবে, আইন অনুযায়ী ‘মধ্যস্থাকারী’ মর্যাদা ও সুরক্ষা খোয়াতে হল বলে সুত্রের খবর। অর্থাৎ এবার থেকে এই প্ল্যাটফর্মে পোস্ট হওয়া প্রতিটি কনটেন্টকে পোষ্ট করা ব্যাক্তির নয় বরং টুইটারের নিজের মন্তব্য হিসাবে ধরে নেওয়া হবে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ জানান যে, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের ঘটনায় পোষ্ট হওয়া ফেক নিউজ শনাক্ত করতে এবং ছড়িয়ে পড়া আটকাতে অক্ষম হয়েছে টুইটার। পাশাপাশি বিভিন্ন খবরকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে টুইটার নিজের ইচ্ছামত কাজ করে বলেও বুধবার টুইট করেন রবিশঙ্কর প্রসাদ।
টুইটারের ভারতে ‘মধ্যস্থাকারী’ মর্যাদা খোয়ানোর টুইট প্রকাশ্যে আসতেই টুইটারের আইনি রক্ষাকবচ কেড়ে নেওয়ার খবর আসে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। ঠিক তার পরই এই নিয়ে মন্তব্য করে ডিজিটাল লিবার্টি অরগানাইজেশন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’ (আইএফএফ)। আইএফএফের মতে, ‘মধ্যস্থাকারী মর্যাদা’ ভারত সরকারের প্রদত্ত কোনও নিবন্ধন নয়, বরং তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা ২(১)(ইউএ)(ডব্লিউ) অনুযায়ী ‘মধ্যস্থাকারী মর্যাদা’ একটি প্রযুক্তিগত যোগ্যতা। এমনকি এই নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও সরকারি ঘোষণা বা আদেশ এখন পর্যন্ত জারি করেনি কেন্দ্র বলে মন্তব্য করেন আইএফএফের কর্তৃপক্ষ। কাজেই ভারতে টুইটারের এবং এর ব্যবহারকারীদের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
এরই মধ্যে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তরফে দুজন সাংবাদিক এবং টুইটারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ৫ জুনের গাজিয়াবাদে ঘটনাকে কোনও ফ্যাক্ট চেক না করেই তাকে সাম্প্রদায়িক ইঙ্গিত দেওয়া হয় বেশ কয়েক জন সাংবাদিকের তরফ থেকে এবং টুইটার সেই খবরকে ছড়াতে সাহায্য করেছে বলে অভিযোগ করেছে উত্তর-প্রদেশের পুলিশের। ‘মধ্যস্থাকারী মর্যাদা’ প্রসঙ্গে টুইটে এই ঘটনারও উল্লেখ করেন রবিশঙ্কর প্রসাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *