হাতি তাড়াতে নাজেহাল বনকর্মীরা 

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৫ এপ্রিল: হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়া হাতি তাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন বনদপ্তরের কর্মীরা। দলছুট দাঁতালের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ সাঁকরাইল, কুলটিকরি ও বেলতলা এলাকার বাসিন্দারা। সোমবার কুলটিকরি এলাকায় বাড়ির দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা এবং মাঠের ফসল তছনছ করার পর বুধবার গাজন উৎসবের বিকেলে একটি দলছুট দাঁতাল বেলতলা এলাকায় ঢুকে পড়ে। হাতিটি দেখে বাসিন্দারা হট্টগোল শুরু করলেও কোনও দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে শুঁড় দুলিয়ে হেলতে দুলতে গোটা এলাকা দাপিয়ে বেড়িয়েছে হাতিটি। বেলতলা গ্রামের কয়েকটি  কলতলায় বালতিতে রাখা জল খেয়ে অবশেষে জঙ্গলে ফিরে যায়।

ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দলছুট দাঁতালটি কলাইকুন্ডা জঙ্গল থেকে গোলবাঁধি হয়ে বেলতলা এলাকায় পৌঁছায়। গ্রামবাসীরা গ্রামের কলের কাছে বালতিতে জল রেখেছিলেন। হাতিটি বালতির জল পান করে গ্রামে ঘুরতে থাকে। এই সময় বনকর্মীরা সেখানে পৌঁছে হাতিটিকে গাইড করে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান।

অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির জঙ্গলে অবস্থানরত একটি হাতির দলকে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত সুবর্ণরেখা নদী পার করে নয়াগ্রামের জঙ্গলে পাঠানোর চেষ্টা করেন বনদপ্তরের কর্মীরা। হাতিগুলি নয়াগ্রামের জঙ্গলে প্রবেশ করার পর ফিরে আসে হুলা পার্টি ও বনদপ্তরের কর্মীরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরবেলা হাতির দলটি আবার ভসরা ও নছিপুর এলাকায় ফের ফিরে আসে। বুধবার ওই এলাকায় ধান ও সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি করে হাতিগুলি। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভের সুরে জানান, বনকর্মীরা হাতি তাড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। হাতিগুলিকে তাড়িয়ে দেওয়ার পরেও তারা ফিরে আসছে।

এই প্রসঙ্গে বনদপ্তরের খড়গপুর বিভাগের আধিকারিক শিবানন্দ রাম জানিয়েছেন, হাতির দলটি কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে অদ্ভুত আচরণ করছে। তাড়িয়ে দেওয়ার পরেও তারা বনকর্মী ও হুলা পার্টির পিছনে পিছনে ফিরে আসছে। দুই-একদিনের মধ্যেই হাতিগুলোকে নয়াগ্রাম হয়ে ওড়িশা সীমান্তের ওদিকে তাড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *