BJP, Khargapur, খড়্গপুরে বিজেপির দেওয়ালে তৃণমূলের লিখন, মুছে দিয়ে লিখলেন দিলীপ ঘোষ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ মার্চ: সামনের বিধানসভা নির্বাচনের আগে খড়্গপুর শহরে নিজেদের জনসম্পর্ক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সকালে চা চক্র থেকে শুরু করে পথসভা, সবটাই করলেন তিনি। সেই সঙ্গে রংপুরে তৃণমূলের দৌরাত্ম্য ও পুলিশের দ্বারা দুষ্কৃতী দৌরাত্ম কায়েম রয়েছে বলে অভিযোগ করলেন দিলীপ ঘোষ। একগুচ্ছ মন্তব্য করে রাজ্য সরকারের তুমুল সমালোচনা করেন তিনি। সেই সঙ্গে খড়্গপুর শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর প্রবীর ঘোষ বিজেপির চিহ্নিত করা দেওয়ালে যে প্রচার লিখন শুরু করেছিলেন, তা মুছে দিয়ে নিজের দেওয়ালে লিখলেন দিলীপ ঘোষ নিজে।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গ্যাস সঙ্কট ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস রয়েছে। কিন্তু কালোবাজারি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। এই সঙ্কট ইস্যু শাসক দলের মদতে হচ্ছে।”

বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে সংসদে অপসারণ নোটিশ দেওয়ার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “স্পিকারের অপসারণ দাবি করে একই কাজ করেছিল, মুখ পুড়েছে। এর আগে এস আই আর ইস্যুতে একই রকম উদ্যোগ নিয়েছিল ওরা। মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সাংবিধানিক ইস্যুর প্রতিবাদ করে কারো জয় হয়নি। ওরা নিজের ক্ষতি করবে। একই দশা হয়েছিল সিপিআইএম- এর। ওদের মাথায় রাখা উচিত যে বিষয়টা বিচারকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।”

তৃণমূলের রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ বয়কট প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যে তৃণমূল রাষ্ট্রপতি এই রাজ্যে এলে দেখা করে না, তারা কোন মুখে দিল্লিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চায়।”

সম্প্রতি খড়্গপুর পৌর এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের অন্যান্য ওয়ার্ডের মতো দেয়াল লিখনের জন্য স্থান চিহ্নিত করেছিল বিজেপি। অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর প্রবীর ঘোষ বিজেপির সেই দেওয়াল মুছে নিজেদের লেখার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু, সেই দেওয়ালে পুনরায় বিজেপি দেওয়াল লিখন করেছে। এদিন তিনি মন্তব্য করেন আরও একাধিক ইস্যু নিয়ে।

খড়্গপুর শহরে একটি পথসভাতে তিনি বলেন, “খড়গপুর শহরে দুষ্কৃতি দৌরাত্ম্যের পেছনে রয়েছে এখানকার পুলিশ। পুলিশ খড়্গপুর শহরে গুন্ডা তৈরি করে। আজ যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে সে পুলিশকে এ কাজে সহযোগিতা করে। আমাদের কাজ সেই খড়্গপুরকে শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।”

তবে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যকে বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। এদিন তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ বাংলার এক বিচিত্র চরিত্র। কখনো নিজেকে যোগী বলেন, কখনো সাধু বলেন। যোগী যদি হবে তাহলে নিউটাউনে এত বড় বাড়ি হল কী করে? আহাম্মকের মতো বড় বড় কথা বলেন তিনি। ইতিমধ্যেই তাঁর বিভিন্ন বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বাংলার মানুষ তাই ওর কথার কোনো গুরুত্ব দেবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *