আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৫ মে: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের আগে দলের সঙ্গে সংস্পর্শ ছিন্ন হয়েছে যুব নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার কার্যত অপমানিত হয়ে দল ছাড়লেন ভাইপোর ছায়াসঙ্গী রিয়াজুল হক। এই ঘটনায় বিব্রত রামপুরহাটের বিধায়ক তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তারই ভাইপো। এমনকি রিয়াজুলকে ব্লক সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি করা হয়েছিল আশিসবাবুরই নির্দেশে।
কংগ্রেস ছেড়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে গেলেও দীর্ঘ এক দশক তাঁকে অশান্তিতে থাকতে হয়েছে। কারণ ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও তাঁকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়নি, কারণ দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে মনমালিন্য। দুজনের মধ্যে এতটাই তিক্ততা শুরু হয় যে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে রামপুরহাটে সভা করেন অনুব্রত মণ্ডল। এরপর অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে সন্ধি করে মন্ত্রিত্ব জোটে আশিসবাবুর। তারপরও যে ভালো সময় গিয়েছে তাও নয়, বোলপুরের দলীয় সভায় আশিসবাবুকে ধৃতরাষ্ট্র বলেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর আশিসবাবুকে অপদার্থ বলে কটাক্ষ করেন অনুব্রত। এমনকি গত বছরের ২১ মার্চ বগটুই কাণ্ডে ভাদু শেখের মৃত্যু নিয়ে আশিসবাবুর সঙ্গে ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয় জেলা সভাপতির।
গত বছরের ২৪ মার্চ বগটুই গ্রামে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দিনই আনারুল হোসেনকে সরিয়ে সৈয়দ সিরাজ জিম্মিকে রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি ঘোষণা করে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কলকাতা ফেরার আগে আশিসবাবুকে জানিয়ে যান ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেন দলের কোন কর্মসূচিতে না থাকে। সেই দিন থেকেই আশিসবাবুর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সঙ্গ ত্যাগ করেন। তবে ব্লক সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মিকে মেনে নিতে পারছিলেন না ডেপুটি স্পিকার। সম্প্রতি বোলপুরে এসে জিম্মির সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার পরামর্শ আশিসবাবুকে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরও বিধায়কের সঙ্গে ব্লক সভাপতির ছায়াযুদ্ধ লেগেইছিল। ফলে ব্লক কমিটিতে আশিসবাবু পছন্দের একাধিকজনকে জায়গা করে দিয়েছেন। এমনকি জিম্মিকে সায়েস্তা করতে ভাইপোর ছায়াসঙ্গী রিয়াজুল হককে সংখ্যালঘু সেলের ব্লক সভাপতি করার প্রস্তাব দেন আশিসবাবুই। নতুন পদ পেয়ে রিয়াজুলও কমিটি সাজাতে শুরু করেন। দলের নেতা মন্ত্রীদের ডেকে রামপুরহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে রাজকীয় ইফতার পার্টির আয়োজন করেন, কিন্তু দল তাঁর সম্পর্কে গোপনে খোঁজখবর নিয়ে তাঁকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়।
সেই নির্দেশ পেয়ে দলের কাছে নিজের পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেন রিয়াজুল। তিনি বলেন, “পারিবারিক অসুবিধা, শারীরিক অসুস্থতা এবং ব্যবসায়িক কারণে সংখ্যালঘু সভাপতি এবং দলের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলাম”। যদিও দলের একাংশের দাবি, রিয়াজুলকে সরিয়ে আশিসবাবুর ডানা ছাঁটা হল। এনিয়ে অসন্তুষ্ট ডেপুটি স্পিকার। যদিও সংবাদমাধ্যমের কাছে কিছু বলতে চাননি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

