আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৮ ডিসেম্বর: সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচনেও গা- জোয়ারি তৃণমূলের। অভিযোগ রামপুরহাট পুরসভার এক কর্মীর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের ব্যাঙ্কে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষে রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়ে ব্যাঙ্কের ভিতরে ঢোকেন সিপিএম প্রার্থীরা। তবে ঢোকার মুখে গেটে তৃণমূল নেতাদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ছাড়পত্র পায় বাম প্রার্থীরা। পুলিশ থাকতে তৃণমূল নেতারা কেন বাম প্রার্থীদের পরিচয়পত্র দেখবেন? এনিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাট কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার এন্ড রুর্যাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে।

ওই ব্যাঙ্কে ১৪ জানুয়ারি ৪১টি আসনে নির্বাচন রয়েছে। সোমবার ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম দিন। এদিন সকালে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব বর্মণ, রামপুরহাট পুরসভার বিরোধী দলনেতা সঞ্জীব মল্লিকের নেতৃত্বে ২১ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে যান ব্যাঙ্কে। কিন্তু তার আগে থেকেই ব্যাঙ্কের গেটে কয়েকজন দলীয় কর্মী নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রামপুরহাট পুরসভার কর্মী ও তৃণমূল নেতা অভিজিৎ মণি। তিনি বাম প্রার্থীদের ব্যাঙ্কে ঢুকতে বাধা দেন। এনিয়ে শুরু হয় ধ্বস্তাধস্তি। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বাম প্রার্থীরা। এক সময় অভিজিৎ মণিকে বলপূর্বক সরিয়ে ব্যাঙ্কে ঢুকতে শুরু করেন বাম প্রার্থীরা। এই সময় ব্যাঙ্কের গেটে কয়েকজন নেতাকে নিয়ে পৌঁছন চেয়ারমান সৌমেন ভকত। তিনি এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা বাম প্রার্থীদের পরিচয়পত্র দেখে তবেই ঢোকার ছাড়পত্র দেন। এসব যখন চলছে তখন বিজেপি কর্মীরা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিল বলে অভিযোগ।
সঞ্জীব বর্মণ বলেন, “তৃণমূলের যে ঐতিহ্য রয়েছে সেটাই এদিন করার চেষ্টা করেছে। পুলিশকে দাঁড় করিয়ে রেখে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ভেবেছিল আমাদের ঢুকতে দেব না। পুরসভার এক কর্মীর নেতৃত্বে কিছু পাতি নেতা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এই পুরসভার কর্মী কিছু দিন আগেও কংগ্রেস করতেন। এখন তৃণমূলে ঢুকে গুন্ডাগিরি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমরাও প্রতিরোধ গড়েছি। আমরা এদিন ২১টি মনোনয়ন জমা দিয়েছি। মঙ্গলবার বাকি আসনে মনোনয়ন জমা দেব। ক্ষমতায় আছে কিন্তু মানুষের মনে তৃণমূল নেই। অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে তৃণমূল সর্বত্র পরাজিত হবে। তাই গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে”।

অভিজিৎ মণি বলেন, “আমরাও প্রার্থীদের নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আমাদের ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। যারা ধাক্কাধাক্কি করছিল তারা ব্যাঙ্কের কেউ নয়। আমি নিজে একজন ব্যাঙ্কের ভোটার। কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি”।
সৌমেন ভকত বলেন, “গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে সকলে মনোনয়ন পত্র জমা দিচ্ছেন। আর ধাক্কাধাক্কি হয় সর্বত্র। স্কুলে বাচ্চারা খেলাধুলো করলেও ধাক্কাধাক্কি হয়। এটা ছোট গেট। ঢুকতে পারছিল না। তাই ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই”।

