সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৬ সেপ্টেম্বর: কংগ্রেসের ক্ষমতা থেকে ছিনিয়ে ঝালদা পুর বোর্ড দখল করল তৃণমূল। ঝালদা পৌরসভার তিন কংগ্রেসের ও দুই নির্দল সহ পাঁচ কাউন্সিলরকে দলে যোগ করালো তৃণমূল। আর এর ফলে ১২ আসন বিশিষ্ট ওই পুরসভায় কংগ্রেসের বিপ্লব কয়াল ও পূর্ণিমা কাঁদু ছাড়া আর কেউ থাকলেন না। তৃণমূলের সংখ্যা ৫ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ১০ জন।
এক নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর বিজয় কান্দু, দুই নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর মিঠুন কান্দু, তিন নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর তথা ঝালদা পৌরসভার পৌর প্রধান শীলা চ্যাটার্জি, চার নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর পিন্টু চন্দ্র, আট নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলালর সোমনাথ কর্মকার আজ তৃণমূলে যোগদান করেন বাঘমুন্ডি বিধানসভা কার্যালয় থেকে। বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো, জেলা সহ সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি, শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।

নির্দল পুরপ্রধান শিলা চট্টোপাধ্যায় ২০২২ সালে পুর নির্বাচনে ফলাফলের দিনই জয়ী হয়ে তৃণমূলের পতাকা ধরেন। ফলে তৃণমূলের পাঁচ কাউন্সিলর পুর নির্বাচনে জয়লাভ করলেও ওই নির্দল কাউন্সিলর দলে আসায় তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৬। কংগ্রেস পেয়েছিল পাঁচটি আসন। পরবর্তীকালে আরেক নির্দল কাউন্সিলর সোমনাথ কর্মকারের সমর্থন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ঝালদার পুর বোর্ড গঠন করে।
দলীয় নির্দেশের বিরুদ্ধে সোমনাথ কর্মকার পুর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তৃণমূল তাঁকে সাময়িক সাসপেন্ড করেছিল। পুরপ্রধান হন তৃণমূলের সুরেশ আগরওয়াল। উপপুরপ্রধানের চেয়ার পান শাসকদলের সুদীপ কর্মকার। কিন্তু ছ’মাস পার হতে না হতেই পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন কংগ্রেসের পাঁচ কাউন্সিলর। তাঁকে সমর্থন করেন দুই নির্দল কাউন্সিলর শিলা চট্টোপাধ্যায় ও সোমনাথ কর্মকার। তবে এর আগেই শিলা দলীয় স্তরে জানিয়ে শাসকদলের সঙ্গ ত্যাগ করেন। এরপর নানান টানাপোড়নের পর হাইকোর্টের নির্দেশে চলতি বছরে পুরপ্রধান হন নির্দলের শিলা চট্টোপাধ্যায়। উপপ্রধানের চেয়ার পান কংগ্রেসের পূর্ণিমা কান্দু। পুরপ্রধান শীলা চট্টোপাধ্যায়ের স্বামী কালিপদ চট্টোপাধ্যায় ও নির্দল কাউন্সিলর সোমনাথ কর্মকার কংগ্রেসে যোগদান করেন। কিন্তু শিলা নির্দল হয়েই থাকেন।

