পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ অক্টোবর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল আজ। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানটি হয় ঘাটাল টাউন হলে। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিংলার বিধায়ক জেলার কো-অর্ডিনেটর তৃণমূল কংগ্রেসের অজিত মাইতি।
বিজয়া সম্মেলনেতে যোগ দিতে এসে খড়্গপুরে ছাত্র-মৃত্যুর বিষয়ে তিনি দোষারোপ করেন খড়্গপুর আইআইটির ডিরেক্টরকে। ছাত্রের মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী বলে এ দিন মন্তব্য করেন তিনি। অজিত মাইতি ছাড়াও এদিন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি আশিষ হুদাইত, যুব সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী, বিধায়ক অরূপ ধাড়া, প্রাক্তন বিধায়ক শংকর দোলই, জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র, ব্লক সভাপতি দিলীপ মাঝি, জেলা নেতা গোপাল সাহা, সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা।

পুরনো দলের কর্মীদের মঞ্চে তুলে সংবর্ধনা দেওয়া হয় রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশ মতো। হাতে আর বেশিদিন নেই। সামনেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর সেদিকে চোখ রেখেই এবার বিজয়া সম্মেলনের মাধ্যমে জনসংযোগ সেরে ফেলল তৃণমূল। পাশাপাশি, কোন এলাকায়, কী কী সমস্যা রয়েছে তার আঁচও পেল শাসক দল। বহু জায়গায় পুরানো কর্মীদেরও ময়দানে নামাল তারা। পুজোর পর দলের এই বিজয়া সম্মেলনের সভাগুলি হয়ে উঠেছে কার্যত জনসংযোগ সভা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো দলের পুরনো নেতা-কর্মীদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। মঞ্চে তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে৷ তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
বিজয়া সম্মেলন থেকে দলের একাধিক লাভ হয়েছে বলে মনে করছে তৃণমূল৷ যেমন- প্রথমত, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ চেহারাটা চোখে পড়ছে সব সভায়। দ্বিতীয়ত, সভাগুলিতে রাজ্য কমিটির একজন অন্তত নেতা উপস্থিত থাকছেন। তৃতীয়ত, ১৯৯৮ সাল অর্থাৎ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল প্রতিষ্ঠার দিন থেকে যাঁরা দলের সঙ্গে ছিলেন সেই পুরনো নেতা-কর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।
সবমিলিয়ে দলের নতুনরা তো আছেনই, সঙ্গে পুরনো সিনিয়র নেতা-নেত্রীরাও বিজয়া সম্মেলনের সভায়-মঞ্চে যথাযথ মর্যাদায় উপস্থিত থাকায় ও মাঠে নামায় সভাগুলির গুরুত্ব যেমন বাড়ছে, তেমনই ধারে ও ভারে বিরোধীদের বুঝিয়ে দেওয়া যাচ্ছে তৃণমূলই বাংলার মানুষের কাছে একমাত্র বিকল্প। অন্য কোনও দল নয়। সভাগুলি পরিণত হচ্ছে সমাবেশে।

