“ব্লক সভাপতি সংখ্যালঘু নেতাদের গুরুত্ব দেন না। তাই আমাকে আমন্ত্রণ জানাননি।”
আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১১ এপ্রিল: বিজেপির পাল্টা সভা করতে গিয়ে নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে নিয়ে এলো তৃণমূল। স্থানীয় বাসিন্দা তথা দলের জেলা কমিটির সসদস্যকে বাদ দিয়েই বীরভূমের মুরারইয়ে করা হল বিজেপির পাল্টা সভা। আমন্ত্রণ না মেলায় স্বাভাবিক ভাবেই গরহাজির ছিলেন দলের জেলা কমিটির সদস্য আলি খান। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়েই দলের অন্দরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল বীরভূমের মুরারইয়ের কেস্তারা গ্রামের মাঠে সৌজন্য ও সম্প্রীতি সভা করেছিল বিজেপি। ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিজেপির পাল্টা সভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল। মুরারইয়ের বেগুনহাট মোরে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কোর কমিটির সদস্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা, সাংসদ অসিত মাল, শতাব্দী রায়, কাজল শেখ, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সহ অনেকে। ওই সভায় ডাক পাননি স্থানীয় তৃণমূল নেতা, জেলা কমিটির সদস্য আলি খান।
এনিয়ে তৃণমূলের মুরারই ১ নম্বর ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ বলেন, “আলি খান এখন আর তৃণমূলের সঙ্গে নেই। তাই তাঁকে ডাকা হয়নি।” যদিও দিন কয়েক আগে বোলপুরের পাঁড়ুইয়ে একটি সভায় মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আলি খান জেলা কমিটির সদস্য বলে সম্বোধন করেছিলেন। দিন কয়েক আগে মুরারইয়ের রাজগ্রামে আলি খানের ইফতার পার্টিতে উপস্থিতি ছিলেন কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখ। এদিন অনুষ্ঠানে না গেলেও আলি খান বলেন, “আমি তৃণমূলে ছিলাম, আছি, থাকব। ব্লক সভাপতি সংখ্যালঘু নেতাদের গুরুত্ব দেন না। তাই আমাকে আমন্ত্রণ জানানি।”
মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “উনাকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বুঝতে পারছি না। তবে উনি তৃণমূলেই আছেন। বাকিটা ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ বলতে পারবেন।” অনেকটা একই বক্তব্য কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখের। তিনি বলেন, “জেলার মুখপাত্র করা হয়েছে বিকাশ রায় চৌধুরীকে। তিনিই বিষয়টা বলবেন। তবে আলি খান আমাকে ইফতারে ডেকেছিলেন, সেখানে আমি গিয়েছিলাম।”
বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন, “আলি খান আমাদের দলেই রয়েছেন। কেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি বলতে পারব না। হয়তো তার অন্য কোনও কাজ ছিল।”আলি খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি প্রশ্ন করতেই বিকাশবাবু বলেন, “বিষয়টি দেখতে হবে।”

