সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৫ অক্টোবর: বাঁকুড়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসে পড়লো।আজ শনিবার সকালে মেজিয়ায় রীতিমতো মঞ্চ বেঁধে মাইক লাগিয়ে চলে বর্তমান ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
জন্মলগ্ন থেকেই বাঁকুড়া জেলাতেও দুটি সমান্তরাল গোষ্ঠী রয়েছে বলে জেলার রাজনৈতিক মহলের দাবি। কোনো কোনো ব্লকে একাধিক গোষ্ঠীও রয়েছে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্যজুড়ে দলের মধ্যে ভয়ঙ্কর দুর্নীতির অভিযোগে ইডি সিবিআইয়ের তদন্ত চলছে। শিল্পমন্ত্রী তথা দলের প্রথম সারির নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেল হাজতে, বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল ও তার কয়েকজন সাকরেদ জেল হাজতে, এই অবস্হায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস রায়, তাপস চট্টোপাধ্যায়দের মধ্যে খেয়োখেয়ি দেখে জেলার গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আনতে কোনো নেতা দ্বিধা বোধ করছেন না।
আজ সকালে মেজিয়ায় ব্যানার টাঙানো হল খোদ ব্লক সভাপতি জন্মেজয় বাউরির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধ গোষ্ঠীতে রয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরি, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা মেজিয়া পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান সহ-সভাপতি রবিলোচন গোপ। এদিন তারা অনুগামীদের নিয়ে ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অবস্থানে বসলেন। প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরি জন্মেজয় বাউরির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, মেজিয়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির অনৈতিক সাংগঠনিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচি। তিনি বলেন, সভাপতি পুরনো কর্মীদের এমনকি আমাকে বা পঞ্চায়েত সভাপতিদের না জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছেন। এভাবে চললে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।
সামনেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় জেলা তৃণমূল বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। মেজিয়া ব্লক তৃণমূল ব্লক সভাপতি জন্মেজয় বাউরিকে অপসারণের দাবিতে ধর্না মঞ্চে আসতে বাধ্য হলেন দলের জেলা সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র। তার সামনেই মাইক ধরে স্বপন বাউরি বলেন, ব্লক সভাপতি দল এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা করে আসছেন। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একাধিকবার জানানোর পরও কিন্তু কোনো সুরাহা মেলেনি। তাই তারা আজ বাধ্য হয়ে ধর্না মঞ্চ সাজিয়ে আন্দোলনে বসেছেন।
রবিলোচন গোপ দাবি করেন, ব্লক সভাপতি নেতা কর্মীদের না জানিয়ে, নিজের লোকেদের নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে সভা এবং বিজয়া সন্মেলন করে যাচ্ছেন যা তারা মেনে নিতে পারছেন না। তাই তারা এই বিক্ষোভে নামলেন। অপরদিকে মেজিয়া ব্লক তৃণমূলের সভাপতি জন্মেজয় বাউরির দাবি, ওনাদের সাথে আমার কিছুই হয়নি। হয়তো কোনো বিষয়ে মনমালিন্য হয়েছিল। সেটাই ধরে আছেন। তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র এই ধর্না মঞ্চে পৌঁছানোর পর তিনি বলেন, যদি কেউ সকলকে নিয়ে চলতে না পারেন তাহলে তা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, সবার মধ্যে যোগাযোগের অভাবে এই মান অভিমান হয়েছিল। সকলকে মিলিয়ে দিয়ে এলাম কোনো গোষ্ঠী কোন্দল হয়নি। এটা বিরোধীদের প্রচার মাত্র। তার আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভ অবস্থান তুলে নেন তৃণমূল কর্মীরা। পঞ্চায়েত ভোটের পূর্বে শাসক শিবিরের এই ধরনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির।
বিজেপির মেজিয়া মন্ডল সভাপতি বিপদতারণ বাউরি জানান, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল এখন রাস্তার উপরে এসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সবই ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে। রাজ্যবাসি তো দেখছেন ওদের নেতাদের বাড়ি থেকে কাড়িকাড়ি টাকা বেরোচ্ছে। এখানেও তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এলাকাবাসী সবই দেখছেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পাননি। এবার সুদে আসলে জবাব দেবেন।

