তৃণমূলের ডিএনএ-তেই গোন্ডগোল, ঝাড়গ্রামে গিয়ে সরব সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ১৫ নভেম্বর: বিরসা মুন্ডার জন্ম জয়ন্তী উদযাপনে গিয়ে ঝাড়গ্রাম আজ একরকম হাইভোল্টেজ স্পট হয়ে উঠেছিল। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের জনসভা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আদিবাসী সমাজের মন বুঝতে রাজ্যের দুই প্রধান দলের শীর্ষ নেতারা কর্মসূচি পালন করলেন। একই সঙ্গে সরব হলেন একে অপরের বিরুদ্ধে। আজ ঝাড়গ্রামে গোপীবল্লভপুরে জনজাতি গৌরব দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূলের ডিএনএতেই গন্ডগোল। তাদের ডিএনএ’তে অসম্মান করা ঢুকে গেছে। এদিন রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির করা রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

গোপীবল্লভপুরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরসা মুন্ডাকে স্মরণ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “কথায় বলে জীবনে এমন কাজ করে যাও যাতে মানুষ তোমায় মনে রাখে। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সে কাজ করে গেছেন বিরসা মুন্ডা। তাই তার জন্মদিনে জনজাতি গৌরব দিবস আমরা পালন করছ” এরপরই তিনি রাষ্ট্রপতির দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে রাজ‌্যের মন্ত্রী অখিল গিরির অবমাননাকর মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “আমি আদিবাসী সমাজের কাছে ক্ষমা চাইছি, কারণ আমারই মত এক বাঙালি আদিবাসী সমাজেরএক মহিলা যিনি দেশের রাষ্ট্রপতি,তাকে অপমান করেছেন। তার গায়ের রং নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু এর জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ৭২ ঘন্টা সমান সময় নিয়েছেন ক্ষমা চাইতে। ৭২ ঘন্টার আগে তার ঘুম ভাঙ্গেনি মুখ্যমন্ত্রীর। তার জন্যেও আমি তার জন্য ক্ষমা চাইছি।” রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুকান্ত বলেন, “একজন আদিবাসী সমাজের সাধারণ মহিলার জীবন যুদ্ধ করে দেশেরজন্য সমাজের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করেছেন। স্বামী, ছেলে মারা গেছেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সব দুঃখকে সঙ্গী করে প্রতি নিয়ত দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। আজ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সকলে মিলে তাকেই রাষ্ট্রপতি করেছি আমরা। উনি আমাদের গর্ব।”

অখিল গিরির মন্তব্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যে ধরনের অসম্মানের কাজ আমাদের রাজ্যের মন্ত্রী করেছেন সেই ধরনের অসম্মানের রাজনীতি ভারতীয় জনতা পার্টি করে না। কিন্তু কি করা যাবে তৃণমূলের ডিএনএ তে গন্ডগোল। মানুষের শরীরে ডিএনএ থাকে। আমার চুল কেমন হবে আমি দেখতে কেমন হবে আমি লম্বা হব না খাটো হবো সব ঠিক করা থাকে। ঠিক সেইভাবে পার্টির ডিএনএ থাকে। পার্টি ডিএনএ ঠিক করে দেয় সে পার্টি কেমন হবে। তৃণমূলের ডিএনএই হচ্ছে অসম্মানের।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, “আজকে কি এটা মনে হয় না তৃণমূলের এক মন্ত্রী অখিল গিরি মন্ত্রী হয়ে এই কথা বলার সাহস কেন দেখালো? কারণ এক দেড় বছর আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাদের নেত্রী, যিনি নাকি বাংলার গর্ব তিনি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী ভারতবর্ষের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভোটে আক্রমণ করতে গিয়ে হোদল কুতকুত, কিম্ভুতকিমাকার বলছেন। যিনি দলের নেতা যিনি আবার বাংলার গর্ব তিনি যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই কথা বলেন তাহলে তার দলের লোকেরা কি বলবেন? যেমন গাছ তার তেমনি তো ফল হবে। ফণিমনসার কাছে কি আপেল ধরবে? সেখানে কাটাই হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের ডিএনএর মধ্যে অসম্মান ঢুকে গেছে এরা কাউকে সম্মান করে না। সকলকে অসম্মান করা এদের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, তুই কোন হরিদাস? মুখ্যমন্ত্রী বলছেন প্রধানমন্ত্রীর কোমরে দড়ি পড়াবেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী হবার পর যাকে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারে না যার মা অটোতে করে ঘুরে বেড়ায় যার ভাই পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল দেওয়ার কাজ করে তাকে দুর্নীতির রানী নাকি কোমরে দড়ি পরাবেন।”

রাজ্যে একের পর অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়েও সরব হন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর বাড়িতে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী বলছেন কিছু জানেন। তার দাবি যদি তাই হয় তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। তার কথায়, “আমরা সিভিক ভলান্টিয়ারের মত সিভিক মুখ্যমন্ত্রী রেখে নেব। পয়সা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাখার প্রয়োজন নেই।”

আজ গোপীবল্লভপুরে সভার আগে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া অঞ্চলে ঠাকুরথান গ্রামে এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে দুপুরে মাধ্যাহ্ন ভোজ সারেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। মনে করা হচ্ছে জঙ্গলমহলে এভাবেই জনসংযোগের কাজ শুরু করল পদ্মনেতারা পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *