জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ১১ জানুয়ারি: দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচির আগে দলীয় পতাকা বাঁধতে রাস্তায় নেমেছিল কর্মীরা। আর তাতেই খোদ দলের উপপ্রধান ও তার দলবলের হাতে আক্রান্ত হল পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী-সহ তিন তৃণমূল কর্মী।
বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল বুদবুদ বাজারে। অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিজেপির দালাল বলে সুর চড়িয়েছে বুদবুদ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রূদ্রপ্রসাদ কুন্ডু। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, বুধবার রাজ্যজুড়ে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার বুদবুদ এলাকায় এই কর্মসূচি রয়েছে। যেখানে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব থাকবেন। তার আগে বুদবুদ বাজারে দলীয় পতাকা লাগাচ্ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী রাকেশ সাউ, উত্তম সেনাপতি সহ বেশকিছু কর্মী। অভিযোগ, ওই সময় আচমকাই তৃণমূল পরিচালিত বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডু ওরফে মনা কুন্ডু তার দলবল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। রাস্তার ওপর ফেলে তাদের পেটায় বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, ঘটনার আগে পঞ্চায়েত উপপ্রধানের সঙ্গে অন্য একটি বিষয়ে মিটিংও করেছেন তৃণমূল পঞ্চায়েতের সদস্যা তথা আক্রান্ত রাকেশ সাউয়ের স্ত্রী রেখা সাউ। ঘটনায় গুরুতর জখম হয় তিনজন। তাদের উদ্ধার করে মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাকেশ সাউকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। আক্রান্ত তিন দলীয় কর্মী গলসি এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জনার্দন চ্যাটার্জির অনুগামী।
আহত রাকেশ সাউ জানান, “দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল করি। লকডাউনে রাজনীতির রং না দেখে অসহায়দের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। সেটাই অপরাধ। রুদ্রপ্রসাদ সেসব পছন্দ করেননি। এদিন পতাকা বাঁধার সময় আচমকা রাস্তায় ফেলে পেটাতে শুরু করে।” তিনি আরও বলেন,
“উপপ্রধানের ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরনে দলের বহু কর্মী, সাধারণ মানুষ অতিষ্ট। ব্লক সভাপতি জনার্দন চ্যাটার্জির হয়ে কাজ করা যাবে না, এরকম ফতোয়া দিয়ে উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডু হুমকি দিয়েছে।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা আক্রান্তদের বিজেপির দালাল বলে সুর চড়িয়েছে বুদবুদ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডু।
তিনি বলেন, “মারধর করা হয়নি। ২০১৯ সালে এসব কর্মীরা বিজেপির দালালি করেছে। তখন আমাদের সক্রিয় কর্মীদের মারধর করেছে। এরা কখনও তৃণমূল, কখনও বিজেপি করে। যারা ওই সময় মার খেয়েছে, সেসব সাধারণ মানুষ এসব বিজেপির দালালদের হাতে আজ তৃণমূলের পতাকা টাঙানো মানতে পারেনি। ক্ষোভ
উগরে দিয়েছে।”
এদিকে গোটা ঘটনায় দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচি শুরুর আগে বেশ বিড়ম্বনাতে তৃণমূল শিবির। গোটা ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে বুদবুদ এলাকায়। গলসি-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি জনার্দন চ্যাটার্জও বলেন, “গোটা বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছে। দল যেরকম নির্দেশ দেবে সেরকম কাজ হবে। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং পরিস্থিতি সামাল দেয়।

