সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ জুলাই: ধর্মতলা যাচ্ছেন, কিন্তু কেন? এর উত্তর পরিষ্কার নয় অনেক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর কাছে। অজানা শহিদ দিবস পালনের নেপথ্যের মর্মান্তিক ঘটনা। আজ পুরুলিয়া থেকে ধর্মতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া তৃণমূল নেতা কর্মীরা ২১ শের শহিদ দিবসের তাৎপর্য বলতে পারেননি। উত্তর নেই তাঁদের। আজ সকাল থেকেই ধর্মতলার উদেশ্য রওনা শুরু ঝালদা ব্লক ও শহর তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের। ঝালদা স্টেশনে ভিড় জমান কর্মীসমর্থকরা। শহিদদের আত্মবলিদান সম্পর্কে অজ্ঞাত এই সব তৃণমূল কংগ্রেসের ধারক ও বাহকরা।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন রাজ্য যুব কংগ্রেস নেত্রী। যুব কংগ্রেসের ডাকে মহাকরণ ঘেরাও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে গুলি চালানোর ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। বিরোধী দল কংগ্রেস সিপিআইএমের বিরুদ্ধে নির্বাচনে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছিল। স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে কংগ্রেস ভোটারদের সচিত্র পরিচয় পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন যুব কংগ্রেস। সেখানেই পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। শহিদ পরিবারগুলিকে পাশে নিয়ে সেই লড়াই করে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু আজও তাঁদের কথা ভোলেননি।

তৃতীয়বার সরকারে এসেও তাই পালন করা হচ্ছে শহিদ দিবস। ক্ষমতায় আসার পর এই ঘটনার তদন্তে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৃণমূল সরকার। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনার পর থেকে প্রতি বছর এই দিনটি শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ তা রাজ্যের আঙিনা ছাড়িয়ে দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে।দেওয়া হয় মাস্ক ও স্যানিটাইজার। বিকেলে পুরুলিয়া ষ্টেশন থেকে রূপসী বাংলা ট্রেনে ধর্মতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী। মহিলাদের সংখ্যা ছিল উল্লেখ করার মতো।


