আমাদের ভারত, ৩ অক্টোবর: কেন্দ্র সরকার না দিলে তৃণমূল দেবে। দু’ মাসের মধ্যে ১০০ দিনের বকেয়া টাকা পাবে তৃণমূলে হয়ে মিশন দিল্লিতে অংশগ্রহণ করা বঞ্চিতরা। যন্তর মন্তরের সভা থেকে এই বড় ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন দরকার পড়লে তৃণমূলের যে দশ হাজার জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তারা নিজেদের এক মাসের বেতন দিয়ে দেবেন।
একুশে জুলাই-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যে প্রাপ্য বকেয়া আদায়ের দাবিতে দিল্লি অভিযানের কথা ঘোষণা করেছিলেন অভিষেক। তাঁর দাবি ছিল, এক লক্ষ লোক নিয়ে দিল্লি অভিযান করবেন। কিন্তু সেই সংখ্যা ছিল না মিশন দিল্লিতে। তার জন্য অবশ্যই বিজেপিকে দায়ী করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের নেতারা।
তাদের দাবি, তৃণমূলের এই কর্মসূচিতে বারবার বাধা পেয়েছেন তারা। তাদের দাবি রামলীলা ময়দানে অস্থায়ী শিবিরের অনুমতি দেওয়া হয়নি, দিল্লি যাত্রার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বিমানও। কিন্তু কেন্দ্রের এই অসহযোগিতা উপেক্ষা করে বাংলা থেকে কয়েক হাজার মানুষ দিল্লিতে গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিষেক। তাই তাদের মধ্যে আড়াই হাজার জনের তালিকা তৈরি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।
মিশন দিল্লিতে তৃণমূলের সফর সঙ্গী হয়েছেন আড়াই হাজার বঞ্চিত। এদের কারো বকেয়ার পরিমাণ আট হাজার, কারো দশ হাজার। অভিষেক দিল্লি থেকেই তাই ঘোষণা করেছেন এই আড়াই হাজার মানুষ যে মানসিকতা নিয়ে দিল্লি এসেছেন, এতে প্রত্যেকেরই টাকা দু’মাসের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে। এটা কেন্দ্র সরকারের দেওয়ার কথা। এভাবে টাকা দেওয়া হয়তো সাংবিধানিকভাবে ঠিক নয়, কিন্তু আমরা এই আড়াই হাজার মানুষের টাকা দু’ মাসের মধ্যে মিটিয়ে দেবো। দরকার পড়লে তৃণমূলের পঞ্চায়েত পৌরসভা মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার জনপ্রতিনিধি আছেন তারা এক মাসের বেতন নেবেন না।
যন্তর মন্তরে ধর্না সেরে অভিষেক কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন বাংলা থেকে বয়ে নিয়ে যাওয়া ৫০ লক্ষ বঞ্চিতের চিঠি। যা তিনি জমা দেবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কাছে। তারপরেও যদি কেন্দ্রের তরফে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করতে না দেখা যায় তাহলে আগামী দিনে বড় আন্দোলন হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।
এই কর্মসূচির পরেও কেন্দ্র নড়েচড়ে না বসলে আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক লক্ষ মানুষ দিল্লি যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক।

