ত্রিপুরায় গোয়ার মতই অবস্থা হবে তৃণমূলের: দিলীপ ঘোষ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ ফেব্রুয়ারি: ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল অসম এবং গোয়ার মতই ফল করবে বলে সোমবার মেদিনীপুরে সাংবাদিকদের জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, সবেমাত্র ত্রিপুরা থেকে ফিরেছি। সেখানে দেখলাম তৃণমূলের কয়েকটি পতাকা লাগানো রয়েছে। লোকজন কোথাও কিছু নেই।
কেশপুরের জনসংখ্যা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ এবং মঞ্চে এক ব্যক্তিকে তুলে তাকে প্রণাম করা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ এদিন কটাক্ষ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উনি একটাও সৎ লোক পেলেন না, কেশপুরে এসে একজনকে সৎ লোক আবিষ্কার করে প্রণাম করলেন। ওদের বংশের চৌদ্দ পুরুষে কেউ সৎ নেই জানি। সারা রাজ্যে কোথাও না পেয়ে কেশপুরে রাস্তা থেকে লোক ধরে এনে প্রণাম করছে। কি আর করা যায়!

নবম দশমে ৮০৩ জনের চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, আরো বেড়ে আট হাজার হবে। গত ১২ বছরে যত পরীক্ষা এবং নিয়োগ হয়েছে সবেতেই দুর্নীতি হয়েছে, চাকরি কেনাবেচা হয়েছে। মাননীয় বিচারপতি যা করছেন তাতে সমস্ত কিছু স্পষ্ট হচ্ছে।
সবে তো শুরু হয়েছে, গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, এসএসসি, প্রাথমিক, পুলিশ এবং ফায়ার ব্রিগেডে নিয়োগেও চাকরি বিক্রি হয়েছে। আদালত সব খুঁড়ে বার করবে। সবে তো ঝাঁকি হ্যায়, পুরো গোডাউন বাকি হ্যায়।

দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলছেন, বাংলা ভাগ হবে না। কিন্তু উত্তরবঙ্গের বিধায়ক সাংসদ তা দাবি করছেন। এক্ষেত্রে দলের অবস্থান কি? দিলীপ ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা উত্তরবঙ্গের জন্য যদি কাজ না করে বড় বড় ডায়লগ মারেন তাহলে ওই কথাই শুনতে হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যে গিয়ে দেখুন উগ্রপন্থীদের কাজকর্ম নেই। বাড়িঘর হয়েছে মানুষের কাজের সংস্থান হয়েছে, হাইওয়ে হচ্ছে। মানুষ বন্দুক ছেড়ে উন্নয়নের কাজ করছে। উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর করা হয়েছে লোক দেখানো। সেখানে তৈরি হয়েছে উত্তর কন্যা বিল্ডিং। কাজকর্ম কিছু হয় না, লোকজন কেউ নেই। শুধুমাত্র দু’ একজন পাহারাদার রয়েছে। ফলে, উত্তরবঙ্গের মানুষ তো দাবি করবেই। তা যাতে না করতে পারে সেজন্য সেখানে উন্নয়নের কাজ করুক সরকার।

এদিন বনগা এবং বাসন্তীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৃণমূলেরই বিক্ষোভ ও আক্রমণ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে মারামারি হচ্ছে। গোলাগুলি চলছে নিজেদের মধ্যেই। এমনকি নিজেদের লোকেদের হাতে খুন হতে হচ্ছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় টিকিট পাওয়ার জন্য আরো বাড়বে এই মারামারি। আসলে প্র্যাকটিস ম্যাচ করছে তারা। নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেদেরই ক্ষোভ বিক্ষোভ বাড়ছে।

রাজ্যের বাজেট প্রসঙ্গে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, কেন্দ্রের বাজেটের পরেই রাজ্য বাজেট পেশ করে। কিন্তু এবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রের টাকা পাওয়া যায়নি, তাই সব দিকেই ফাঁপরে পড়েছে সরকার। ডিএ নেই, পেনশন নেই, চাকরি নেই। তাই আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছে সরকারি কর্মচারীরা, রাজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন তারা। এভাবে প্রশাসন ভেঙে পড়লে দুর্বিসহ অবস্থা হবে মানুষের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফিরহাদ হাকিম বলছেন, যারা ডিএ চাইছেন, আন্দোলন করছেন, তারা সিপিএমের লোক। দিলীপ ঘোষ বলেন, এতদিন সরকার তাদের উপর চোখ রাঙিয়েছে এবার পাল্টা সরকারি কর্মচারীরা সরকারের উপর চোখ রাঙাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *