TMC, Birbhum, বীরভূমের পুরনোতেই ভরসা তৃণমূলের

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৭ মার্চ: তিনটি নতুন মুখ নিয়ে এলেও বীরভূমে পুরনোতেই আস্থা রাখল তৃণমূল। বয়স জনিত কারণে বাদ যাওয়ার সম্ভবনা থাকলেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের টিকিট দিল দল। নাম প্রকাশের পরেই জেলায় কোথাও কর্মীরা আবীর খেলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন, আবার কোথাও কর্মীরা মুষড়ে পড়লেন। এমনই ছবি ধরা পড়ল বীরভূমের ১১টি বিধানসভা এলাকায়।

দুবরাজপুর বিধানসভায় এবার পুনরায় প্রার্থী করা হলো নরেশ চন্দ্র বাউরিকে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে নরেশ চন্দ্র বাউরি ফরওয়ার্ড ব্লকের বিজয় বাগদিকে ৩৯৮৯৪ ভোটে পরাজিত করেন। কিন্তু ২০২১ সালে তাঁকে প্রার্থী করেনি দল। ওই কেন্দ্রে নরেশ চন্দ্র বাউরিকে সরিয়ে দেবব্রত সাহাকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। ৩৮৬৩ ভোটে বিজেপির অনুপ কুমার সাহার কাছে পরাজিত হয় তৃণমূল। প্রার্থী পদ না পেয়ে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে নরেশ চন্দ্র বাউরির। ফলে তিনি যোগ দেন কাজল শেখ গোষ্ঠীতে। কাজল লবির হাত ধরেই ফের দুবরাজপুরে টিকিট পেলেন নরেশবাবু।

হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রে চিকিৎসক অশোক চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে প্রার্থী করা হলো জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়েজুল হক ওরফে কাজল শেখকে। অন্যদিকে সিউড়িতে বিকাশ রায় চৌধুরীকে সরিয়ে বিধান সভায় প্রার্থী করা হলো পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্বল চট্টোপাধ্যায়কে। এক্ষেত্রে অনুব্রত মণ্ডল এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ বিকাশ রায় চৌধুরী এর আগে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ছিলেন। কিন্তু এবার কাজল সভাধিপতি হওয়ায় বিকাশবাবুরা ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিল। কাজল প্রার্থী হওয়ায় জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে বিকাশবাবুকে বসানোর রাস্তা পাকা করছেন অনুব্রত। এমনটাই মনে করছেন দলের একাংশ। তবে হাঁসন কেন্দ্রে কাজল শেখকে প্রার্থী করায় বেজায় ক্ষুব্ধ তারাপীঠ। ইতিমধ্যে দলের কর্মীদের একাংশ ভোট না করার কথা সমাজমাধ্যমে লিখতে শুরু করেছেন।

অন্যদিকে রামপুরহাট এবং মুরারই নিয়েও অসন্তোষ শুরু হয়েছে। রামপুরহাটে পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত টিকিটের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। কিন্তু দলনেত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা রাখায় দলের একাংশ ক্ষুব্ধ। মুরারইয়ে অনুব্রত মণ্ডলের আস্থাভাজন প্রয়াত বিধায়ক আব্দুর রহমানের ছেলে সঞ্জিবুর রহমান টিকিটের দাবিদার ছিলেন। অন্যদিকে কাজল শেখের আস্থাভাজন পাথর ব্যবসায়ী আলি খানও টিকিটের দাবিদার ছিলেন। দলের কোন্দল মেটাতে ফের চিকিৎসক মোশারফ হোসেনেই আস্থা রাখল দল। তবে এনিয়ে ক্ষুব্ধরা কেউ মুখ খুলতে চাননি। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন। আমি কৃতজ্ঞ। কর্মীরা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। নাম ঘোষণার পর তাঁরা আবীর খেলে তার বহিঃপ্রকাশ করলেন।”

কাজল শেখ বলেন, “সকলেই টিকিট পাবে না। কিন্তু আমরা দলনেত্রীর আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে যাব। ২৯৪ আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী। তিনি সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকেন। ফলে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দেবেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *