পার্থ খাঁড়া, কেশপুর, ১৭নভেম্বর: বুধবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের বাইক বাহিনী কেশপুরের ১৫টি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার একাধিক গ্রামে ও পাড়ায় লাল ঝান্ডার মিছিলে অংশ গ্রহনে নিষেধ করে। বুধবার কেশপুরের বাজারে তৃণমূলের জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে মিছিল থেকেও হুমকি দেওয়া হয়, লাল ঝান্ডার মিছিলে সামিল হলে হাত পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি।
ধলহারা গ্রামের দোলই পাড়াতে বুধবার সন্ধ্যা হুমকি দেয়ে মিছিলে আসতে বারণ করে আসে তৃণমূলের বাইক বাহিনী।
ভোর রাতে রান্না করে খাবার খেয়ে এবং শুকনো খাবার সংগে নিয়ে কোলের বাচ্চাকে নিয়ে সকাল সকাল দীর্ঘ মেঠো পথে এসে জামসেদ আলি ভবনে পৌঁছান অহল্যা দোলই, অমলা দোলই সহ এমন কয়েকশ পরিবার। কোলে বাচ্চা নিয়ে কেশপুরে মহামিছিলে হাঁটলেন প্রত্যেকে সাত কিমি পথ।
ধলহারা, নাড়াদেউল,খেতুয়া, জোড়াগেড়্যা, শীরষা চৌকান, মধুপুর, মুগবসান, আমুড়িয়া এমন ৩৭টি মৌজার সড়ক পথ সহ মোড়ে মোড়ে তৃণমূলের বাইক বাহিনীর হাতে কাঁচা বাঁশের লাঠি নিয়ে নজরদারী চলে। বুধবার রাত সহ বৃহস্পতিবার সকালেও জগন্নাথপুর, শাঁকপুর এমন একাধিক কেশপুর বাজার সংলগ্ন গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় চলে বাহিক বাহিনীর হুমকি দিয়ে বাইক র্যালি।
এর কারণ তৃণমূল জানে।যেসব মৌজায় ও গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় লুঠ সহ বঞ্চনা দূর্নীতি বেশী সেই এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত। তাই সেই সমস্ত এলাকা দমিয়ে রাখতে দমন পীড়ন অত্যাচারও বেশী। ধলহারা বুথে ৭৩টি দলিত পরিবারের গৃহ আবাসের বরাদ্দ টাকা অন্যদের বিক্রি করেছে তৃণমূলের দল ও তার প্রধান। জগন্নাথপুর বুথে ৪৭৬ জনের জবকার্ড তৃণমূলের দখলে এবং গত সাত বছরের সমস্ত কাজের টাকা তাদেরই পকেটে। এমন ঘটনা কেশপুরের ১৫টি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায়। সেই লুঠের কোটী কোটী টাকার ভাগ বাঁটরা নিয়েই কেশপুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষে বোম বন্দুক নিয়ে বারে বারে ঘটছে।।
লুঠের বহরে গরীব মানুষ বঞ্চিত গৃহআবাস, একশ দিনের কাজ সহ সামাজিক সুরক্ষার ভাতা থেকেও। শান্তিতে বাস করবে সেই পরিবেশও নেই তৃনমুল দলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারনে। দুই পক্ষই বাধ্য করে গ্রামের মানুষকে তাদের লড়াইতে সামিল হতে। নইলে আরোও অত্যাচার সহ হায়রানি সামাজিক বয়কট জারি হয়।
কেশপুরের মাটির অগ্নিগর্ভ বোম বারুদের ও অস্থির পরিবেশের কারনে রুটি রুজির সংকোট বেড়েছে। মানুষ পরিত্রান চাইছেন এই অরাজকতার হাত থেকে। কাজ না পেয়ে কেশপুর ব্লকের ২৭ হাজার পুরুষ যুবক আজ গ্রাম ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে সহ নেপালে গিয়ে আছেন।
এমন বাধা হুমকি, রাস্তায় নজরদারি সহ মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেট এড়িয়ে দীর্ঘ মেঠো পথ ধরে কেশপুরের মহামিছিলে সামিল হলেন শত শত মানুষ। আদিবাসী নারী, পুরুষ সহ সমাজের দলিত ও সংখ্যালঘু মানুষ সাহসের সাথে সামিল হলেন গ্রাম জাগাও চোর তাড়াও এবং দূর্নীতি বাজদের হঠিয়ে জনগনের পঞ্চায়েত গড়ার বার্তানিয়ে। মহান নভেম্বর বিপ্লবী বার্ষিকীর বার্তা এবং জনজীবনের সমস্যা গুলির সমাধানের লড়াই সংগ্রাম শক্তিশালী করার বার্তা জানিয়ে এই মহামিছিল হয়। একাধিক মৌজা থেকে মানুষ যেমন এসেছেন নিজেদের মতো করে তেমনি কেশপুর বাজার সংলগ্ন তিনটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকা থেকে জাঠা মিছিলের বার্তা নিয়েও মানুষ সামিল হয় এই মিছিলে।
মিছিল শেষে কেশপুর বাসস্ট্যান্ডে হয় সভা। সভায় কৃষক নেতা তরুন রায় শ্রমিক নেতা কীর্তি দেবক্সী এবং রামেশ্বর দোলই তৃণমূলের এই হামলাকে ধিক্কার জানিয়ে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মানুষ মারা অর্থনীতির পদক্ষেপ সহ দূর্নীতির ঘটনা গুলি তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেন। আর দূর্নীতিবাজদের হঠিয়ে জনগনের পঞ্চায়েত গড়ে তুলতে মানুষের জোট গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

