তৃণমূল ভেবেছিল রাজ্যপাল জগন্নাথ হয়ে বসে থাকবে: দিলীপ ঘোষ

আমাদের ভারত, ১৮ জুন: পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার অভিযোগ পেতেই রাজ্যপাল একেবারে সরেজমিনে বাস্তবটা খতিয়ে দেখছেন। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের জন্য তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি রাজ্যপালকে বিরোধী দলের ক্যাডার বলে কটাক্ষ করেছেন। এর পাল্টা দিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভেবেছিল রাজ্যপাল জগন্নাথ হয়ে বসে থাকবেন। সরকারের দেওয়া রিপোর্ট মেনে নেবেন।

রবিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ কুনাল ঘোষকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “উনি তো আইএস’এর ক্যাডার। উনি জানেন কিভাবে কি করতে হয়। সন্ত্রাসের প্রতিরোধ করতে গভর্নর নিজে পৌঁছে যাচ্ছেন, এটা তো ওনারা কখনো দেখেননি। ওনারা ভেবেছিলেন উনি জগন্নাথ হয়ে বসে থাকবেন, আর সরকার যা রিপোর্ট দেবে তা মেনে নেবেন। গভর্নর ভালো একজন প্রশাসক তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে সরকারে থেকে। উনি জানেন সরকারে কিভাবে ম্যানুপুলেশন হয় তাই নিজের চোখে গিয়ে দেখছেন। মানুষ এটাকে ভালোভাবে নিচ্ছেন, আগের রাজ্যপাল গেছেন, কিন্তু ভোটের পরে। কিন্তু যেখানে অশান্তির সম্ভাবনা রয়েছে সেখানেই ইনি পৌঁছে যাচ্ছেন।”

পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন পর্বে অশান্তি ও হিংসার অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যপালের শান্তিকক্ষ গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের যে কর্মীরা নমিনেশন করেছেন এসব স্পর্শকাতর জায়গায় তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জোর করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হচ্ছে, বাড়ি ছাড়া রয়েছেন তারা। বাড়ির লোককে ধমকানো হচ্ছে, খুনের হুমকি দেওয়ার হচ্ছে, এগুলোর সমাধান কিভাবে হবে? গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যাতে ভোট দিতে মানুষ না পারে, প্রচার না হয় তার জন্য আগে থেকে ভয় দেখানো শুরু হয়েছে। তাই রাজ্যপাল তাঁর মতো করে করছেন, কিন্তু তার একটা সীমা রয়েছে। তিনি নির্দেশ দিতে পারেন কিন্তু এই সরকার কারোর নির্দেশ মানে না। কোর্টকেও মানে না। রাজ্যপাল যেখানে সন্ত্রাস সেখানে যাচ্ছেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়া উচিত, তিনি পুলিশ মন্ত্রী। পুলিশের রিপোর্টে বলা হচ্ছে একটাও মৃত্যু হয়নি, ওইদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন আমার পার্টির দুজন মারা গেছে। কংগ্রেস সিপিএমেরও লোক মারা গেছে। তাহলে সেগুলো রিপোর্টে নেই কেন। এই চালাকি করা হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *