আমাদের ভারত, নদিয়া, ২ নভেম্বর: শান্তিপুর বিধানসভা গতবার ছিল বিজেপির দখলে। এবার উপনির্বাচনে বিজেপিকে হটিয়ে তৃণমূল তাদের তাদের দখলে নিয়ে নিল এই বিধানসভা। তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামী এই কেন্দ্রে বিজপি প্রার্থীকে হারিয়ে জয় লাভ করে। তৃণমূল প্রার্থী বিজেপি প্রার্থীর থেকে প্রায় ৬৪ হাজার বেশি ভোটে জয়লাভ করে।
সকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকে তৃণমূল প্রার্থী বিজেপি প্রার্থীর থেকে এগিয়ে ছিল। বেলা গড়াতেই এই ব্যবধান বাড়তে থাকে। সপ্তম রাউন্ড শেষে তৃণমূল প্রার্থী পায় ৪৫৬৪৯ ভোট আর বিজেপি প্রার্থী পায় ২৫৬৭৪টি ভোট। এরপর অষ্টম রাউন্ড শেষে তৃণমূল প্রার্থী বিজেপি প্রার্থীর থেকে ১৯৯৭৫টি ভোটে এগিয়ে থাকে। এই রাউন্ড শেষে তৃণমূল পায় ৫২৭৭৬টি ভোট। এরপর ১৬রাউণ্ড শেষে তৃণমূলের ঝুলিতে ভোটের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১০৩১৭৩ ভোট। বিজেপি প্রার্থীর ঝুলিতে ৪৩৬০৬ টি ভোট। অর্থাৎ ১৬ রাউন্ড শেষে তৃণমূল বিজেপির থেকে এগিয়ে থাকে ৫৯৫৬৭টি ভোটে। বেলা শেষে ভোট গণনা শেষ হলে তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামী জয় লাভ করে। তিনি মোট ভোট পান ১১২০৮৭টি। বিজেপি প্রার্থী নিরঞ্জন বিশ্বাস পান ৪৭৪১২টি ভোট।
সিপিএম প্রার্থী সৌমেন মাহাত পান ৩৯৯৫৮টি ভোট। আর কংগ্রেস প্রার্থী রাজু পাল পেয়েছেন ২৮৭৭টি ভোট। তৃণমূল প্রার্থী বিজেপি প্রার্থীর থেকে ৬৪৬৭৫টি বেশি ভোটে জয়লাভ করে শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে।
এই কেন্দ্রে মোট ইলেক্টর ২৫৫৩৩৪, মোট ভ্যালিড ভোট হয়েছে ২০২৩৩৪, নোটাতে পড়েছে ১৮৮০টি ভোট, ভোট বাতিল হয়েছে ২৫৫টি। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রধান বিরোধী বিজেপি প্রার্থী নিরঞ্জন বিশ্বাস ভোটে হেরে বলেন, “এই কেন্দ্রে তৃণমূল ভোটের দিন ব্যাপক হারে দুর্নীতি করেছে। মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। মানুষ আতঙ্কে বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। তাই এই ফলাফল হয়েছে”।
অপরদিকে তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর বাবু ভোটে জিতে বলেন, “এই কেন্দ্রের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বাংলায় মমতা ব্যানার্জি যেভাবে উন্নয়নের জোয়ার এনে চলেছে, তাতে মানুষ তৃণমূলের পক্ষে রায় দেবে আমার বিশ্বাস ছিল, আর সেটাই হয়েছে। এই জয় এখানকার মানুষের জয়। আমি এই কেন্দ্রে কীভাবে এখানকার মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়, যাতে এখানকার মানুষদের উন্নয়ন ঘটে সেই দিকে নজর রেখে চলবো, এখানকার মানুষদের সাথে নিয়ে মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের চাকা এগিয়ে নিয়ে যাবো”।

