পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২১ এপ্রিল: বিজেপির জন্য একটি কথাও খরচ না করে বালুরঘাটে বামফ্রন্টকে ভোট না দেবার আবেদন মমতার। বুধবার বালুরঘাটে শেখর দাসগুপ্তের নির্বাচনী সভা থেকে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে একাধিকবার সোচ্চার হবার ঘটনাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে শহরে। তিনি বলেন, এখানে বামফ্রন্টকে ভোট দিয়ে কি করবেন? তৃণমূলকে ভোট দিলে তাদের সরকার ক্ষমতায় আসবে। বামফ্রন্ট না ঘর কা, না ঘাট কা। ওরা বিজেপির সাথে গলা মেলাবে। সভার শেষের দিকে ফের মমতা বলেন, আরএসপি সিপিএমকে দয়া করে কোনও ভোট দেবেন না, কোনও লাভ নেই। তাতে বিজেপির হাত শক্ত হবে। কিন্তু তৃণমূল জিতলে, তাদের সরকার বাংলাকে রক্ষা করবে। বিজেপির বিরুদ্ধে একটি কথাও খরচ না করা এবং বামফ্রন্টকে বার বার ভোট দিতে না বলা, তবে কি আরএসপি সিপিএমকেই বালুরঘাটে বেশি ভয় পাচ্ছে তৃণমূল? এদিন মমতার বক্তব্যে উঠে এসেছে এমনই জোড়ালো প্রশ্ন। যদিও রাজনৈতিক মহল মনে করছে বিজেপির শক্তিকে আড়াল করতেই বামফ্রন্ট লকে নিয়ে মমতার এমন অভিনব ভোট কৌশল।
বুধবার বালুরঘাট আসনে তৃণমূল প্রার্থী শেখর দাসগুপ্তের হয়ে প্রচারে আসলেও বিজেপি প্রার্থীর বিপক্ষে তেমন কোনও মন্তব্যই করতে দেখা যায়নি মমতাকে। কিন্তু জেতার ব্যাপারে আরএসপি সিপিএম যে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় বাধা তা এদিন তিনি বারবার তার বক্তব্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। যাকে ঘিরেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে গোটা বালুরঘাট শহরে। ২০১১ তে বালুরঘাট কেন্দ্রে আরএসপি প্রার্থী বিশ্বনাথ চৌধুরীকে হারাতে সক্ষম হলেও ২০১৬ সালে ফের এই কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখে আরএসপি। এবারে তাদের প্রার্থী রয়েছেন সুচেতা বিশ্বাস। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন অশোক লাহিড়ী। ভোটের হাওয়া তাদের পক্ষে থাকলেও বহিরাগত ইস্যু অনেকটাই চিন্তায় ফেলেছে গেরুয়া শিবিরকে। সেইসব নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো জোর চর্চা করবেন বলে অনেকটাই আশাবাদী ছিলেন দলীয় নেতা কর্মীরা। কিন্তু সেই বিজেপি প্রার্থীর জন্য মমতা একটি কথাও খরচ না করায় নিতান্তই হতবাক হয়েছেন দলের কর্মীরা। অন্যদিকে বারবার সরব হয়েছেন আরএসপি- সিপিএমকে ভোট না দেবার প্রসঙ্গে। তবে কি তৃণমূলকে জেতাতেই মমতার এমন নতুন কৌশল? যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও রাজনৈতিক মহল মনে করছে এই কেন্দ্রে বিজেপির শক্তিকে আড়াল করতেই মমতার এমন কৌশল।

