অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ৩ আগস্ট: ত্রিপুরায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগে মঙ্গলবার গোপীবল্লভপুরে মিছিল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের উপর হামলার নিন্দা করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে পুরো গোপীবল্লভপুর বাজারে মিছিলটি পরিক্রমা করে।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঝাড়গ্ৰাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু, সাধারণ সম্পাদক লোকেশ কর, ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হেমন্ত ঘোষ, যুব নেতা সত্যকাম পট্টনায়েক, রঞ্জিত মহাকুল প্রমুখ।
এদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুলাল মুর্মু অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের প্রবল সমালোচনার পাশাপাশি বলেন, ভোটের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা নাড্ড, মোদী,অমিত শা সবাই পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিন্তু তখন তাদের উপর বাংলার কেউ আঁচড় কাটেনি। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় নেতার উপর হামলা করা হচ্ছে, এতে মানুষ বিচার করবে গণতন্ত্র কোথায় রয়েছে। দুলাল মুর্মু আরও বলেন, মোদী গঙ্গা স্বচ্ছ করার কথা বলে গঙ্গায় শবদেহ ভাসিয়েছেন, কিন্তু ২০২৪ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হলে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারীকা পর্যন্ত সারা দেশ গঙ্গা জল দিয়ে শুদ্ধ করা হবে।

উল্লেখ্য, সামনে প্রায় বছর দেড়েক পরে রয়েছে ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ত্রিপুরা দখলের মিশন নিয়ে নেমেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই সাংগঠন বিস্তারের জন্য ত্রিপুরায় হাজির হয়েছে পিকের টিম আইপ্যাক। কিন্তু আইপ্যাক কর্মীদের একটি হোটেলে আটকে রাখার অভিযোগ উঠে ত্রিপুরা পুলিশের উপর। পরবর্তী সময়ে সেই ঘটনার সুত্র ধরে গত সোমবার ত্রিপুরায় হাজির হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ত্রিপুরায় প্রবেশের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিক জায়গায় পথ অবরোধ, বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাকে। দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড এর উপর এরকম হামলার প্রতিবাদে রাজ্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

