নন্দীগ্রামে দোলা সেনের সামনে তৃণমূলের বিক্ষোভ, প্রকাশ্যে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
১৪ এপ্রিল: তৃণমূল বনাম বিজেপি নয়। নন্দীগ্রামে এবার তৃণমূল বনাম তৃণমূলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দোলা সেনের সামনেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল- কংগ্রেসের একাংশ। যাকে কেন্দ্র করে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা নন্দীগ্রাম। মূলত শেখ সুফিয়ান গোষ্ঠী বনাম আবু তাহের গোষ্ঠীর কোন্দল প্রকাশ্যে আসে এদিন। আর সেখান থেকেই নন্দীগ্রাম- ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতির অপসারণের দাবি তোলা হয়।

জানাগেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা ছিল সুব্রত বক্সী ও দোলা সেনের। তাদের আসার আগেই কার্যত বিক্ষোভ শুরু হয় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে।তাদের দাবি, এদিনের বৈঠকে আবু তাহেরের গোষ্ঠীর লোকজনদের ডাকা হয়নি। উল্টে যারা বিজেপির হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে কাজ করেছে সেই শেখ সুফিয়ান গোষ্ঠীর লোকজনদের ডাকা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দোলা সেন ওই এলাকায় পৌঁছলে তার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কর্মীরা। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি স্বদেশ নায়েক দূর হটাও স্লোগান দিতে থাকেন আবু তাহের অনুগামীরা। দোলা সেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নন্দীগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে আবু তাহের তার অনুগামীদের আশ্বস্ত করলে বিক্ষোভ উঠে যায়।

আবু তাহের জানান, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি ১০ দিন আমাকে সময় দিন এর উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে দেখাবো। আজ আমাদের রাস্তায় দেখতে পেয়ে বলছে মিটিংয়ে চলে আসুন। আর আমরা যদি না আসতাম আমাদের ডাকা হতো না। যারা সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে হারিয়েছিল তাদের আজ ওই মিটিংয়ে ডাকা হয়েছে।

দোলা সেনের বক্তব্য, “বাইরে কোনো বিক্ষোভ ছিল না। কর্মীরা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। খুব সুস্থভাবে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।”

এ বিষয়ে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল জানান, “তৃণমূল কোনও সাংগঠনিক দল নয়। আগাগোড়া কাটমানি নিয়ে চলে। তাই কে কতটা কাটমানি খেয়ে কালীঘাটে পাঠাতে পারবে দল তাদের নিয়ে চলছে। তাই আজ যারা ডাক পায়নি তারা অবহেলার শিকার হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *