পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ অক্টোবর: কর্মী নয় চামচা দিয়েই চলছে বালুরঘাটে তৃণমূলের রাজনীতি। তৃণমূলের ভরা কর্মীসভায় রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যকে ঘিরে কার্যত তোলপাড় গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর। রবিবার বালুরঘাট শহর তৃণমূলের তরফে আয়োজিত নাট্যতীর্থে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সভায় এমনই মন্তব্য করেন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক গৌতম দাস। শুধু তাই নয় এদিনের সভামঞ্চে বসে থাকা জেলা তৃণমূলের সভাপতি উজ্জ্বল বসাককেও ওই সমস্ত চামচাদের নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। গৌতম দাসের কথায়, চামচাদের কাছে একটি ভোটও নেই অথচ তাদের দাপাদাপিতে ভরে গেছে বালুরঘাট।
যদিও এই বক্তব্য নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাননি বালুরঘাট টাউন তৃণমূল সভাপতি বিমান দাস। তিনি বলেন, রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের এমন মন্তব্য কিছুটা
গোষ্ঠীবাজিকেই উস্কেছে। যে সবের সমাধান করতেই এদিনের কর্মীসভার আয়োজন করা হয়েছিল।
আগামী পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে রবিবার এক কর্মীসভার ডাক দেয় বালুরঘাট শহর তৃণমূল কংগ্রেস। যেখানে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক, শহর তৃণমূল সভাপতি বিমান দাস ছাড়াও একঝাঁক তৃণমূল নেতৃত্বরা। যেখানে বক্তব্য রাখবার সময় দলের কর্মীদের একাংশকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন গৌতম দাস। তাঁর কথায় বালুরঘাট শহরে এখন তৃণমূল কর্মীদের থেকে চামচাদের ভিড়ই বেশি। ত্রিশ বছরের দল করবার অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করে ওই রাজ্য নেতা বলেন, চামচাগিরি করে দলকে জেতানো যায় না। চামচাদের কাছে ভোট থাকে না। রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্য এদিনের সভায় উপস্থিত থাকা কর্মীদের একাংশের মনোবল বাড়িয়ে তোলে। হাত তালিতে ভরিয়ে দেন নেতা কর্মীদের একাংশরা।
তবে খোদ ওই রাজ্য নেতার এমন বক্তব্যে শহরে প্রকাশ্যে এসেছে দলের দুর্বল সাংগঠনিক চিত্র। যাকে ঘিরে জোর চর্চাও শুরু হয়েছে বালুরঘাট শহরে। শুধু তাই নয়, কেন ওই রাজ্য নেতা এদিন মঞ্চে উঠে এমন ঝাঁঝালো বক্তব্য পেশ করলেন তা নিয়েও দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।

