দলীয় সদস্যদের অনাস্থায় পরাজিত বড়জোড়ার গদারডিহি পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্ৰধান ও উপপ্ৰধান

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৯ জুলাই: দলীয় সদস্যদের আনা অনাস্থা ভোটে পরাজিত হলেন তৃণমূলের প্ৰধান ও উপপ্ৰধান। ১২ সদস্যের গদারডিহি পঞ্চায়েতের প্ৰধান ও উপপ্ৰধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থায় ১০ জন দলীয় সদস্য বিরুদ্ধে ভোট দেন।

বড়জোড়া ব্লকের এই পঞ্চায়েতেও ২০১৮ সালে বিরোধী দলকে প্রাৰ্থী দিতে না দেওয়ায় তৃণমূল বিনা প্ৰতিদ্বন্দিতায় পঞ্চায়েত দখল করে। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোট করতে না দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন বড়জোড়া ব্লক তৃণমূলের একটি গোষ্ঠী। কিন্তু তবুও ভোট না করেই গদারডিহি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২টি আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় তৃণমূল। আর তখন থেকেই গোষ্ঠী কোন্দল লেগেই ছিল এই পঞ্চায়েতে। গোষ্ঠী কোন্দলের মধ্যেই প্রধান নির্বাচিত হন রূপা মুখোপাধ্যায় ও উপপ্রধান হন কৃষ্ণপদ ঘোষ।

প্রধান ও উপপ্রধান দলের আদর্শ বিরোধী এবং পঞ্চায়েতী আইন বহির্ভূত কাজ করছেন, এই অভিযোগ তুলে দলেরই ৯ জন সদস্য তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। প্রায় একমাস আগে এই অনাস্থা আনলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রধান, উপপ্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করেন কিন্তু সেই চেষ্টা বিফল হওয়ায় অনাস্থাই একমাত্র উপায় হয়ে ওঠে। সেই মতো বৃহস্পতিবার প্রধানের বিরুদ্ধে এবং শুক্রবার উপ-প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ জন করে সদস্য ভোট দেন। অবশ্য এই তলবি সভায় দু’দিনই প্রধান – উপপ্রধান দুজনেই উপস্থিত ছিলেন না।

তাদের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্ৰসঙ্গে প্রধান রূপা মুখোপাধ্যায় ও উপপ্রধান কৃষ্ণপদ ঘোষ উভয়ই দলের ব্লক সভাপতি তথা বিধায়ক অলক মুখার্জির কলকাঠি নাড়াকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, অলক মুখার্জির নেতৃত্বেই ওই পঞ্চায়েত সদস্যরা গোষ্ঠীবাজি করে চলেছেন। তাদের অভিযোগ, অলক মুখার্জির নেতৃত্বে পঞ্চায়েতে ঠিকাদার রাজ চলছে। এছাড়াও কিছু সদস্য ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তারই প্রতিবাদ করেছিলাম বলে আমাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অনাস্থা আনা হয়েছে।

বিধায়ক অলক মুখার্জি তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান, উপপ্রধানের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনও দিন গোষ্ঠী নিয়ে রাজনীতি করি না। সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ায় ১০ জন সদস্য আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এনেছিলেন। আমি তা জেলা নেতৃত্বকে পাঠিয়েছিলাম। জেলা নেতৃত্ব আবার রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তা পাঠিয়েছিলেন। তারপর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশমতো কাজ হয়েছে।

এ বিষয়ে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত অগস্থি বলেন, শাসক দলের নেতারা গোটা জেলা জুড়ে প্রতিটি পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ সব জায়গাতেই ঠিকাদারি রাজ চালাচ্ছেন। এখন ওদের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে গন্ডগোলের জেরে এই কেত্তন শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *