তৃণমূলে এখন ডাকাত- চোররাও কর্মী, বেঁফাস মন্তব্য তৃণমূল বিধায়কেরই, সুকান্ত বললেন, উনি তাদের সর্দার

আমাদের ভারত, ২৮ এপ্রিল:তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ নিয়ে সরব রাজ্যের সব বিরোধীরাই। এবার বিরোধীদের হাতে এই ইস্যুতে হাতিয়ার তুলে দিলেন খোদ চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বেফাঁস বলে ফেললেন, “তৃণমূলে তো এখন ডাকাতও কর্মী চোরও কর্মী। তাই বলে কি আমি ডাকাতকে ছেড়ে দেবো চোরকে ছেড়ে দেবো?” আর তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য, উনি তবে চোর-ডাকাতের সর্দার।

কিন্তু হঠাৎ এই কথা কেন বললেন অসিত মজুমদার? রাজনৈতিক মহলের ধারণা এর পেছনে রয়েছে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চরম গোষ্ঠী কোন্দল। হুগলী-চুঁচুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোলমাল সামলাতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। পুলিশের হস্তক্ষেপের আগেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছে। তাতে আহত হয়েছেন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ প্রেমজিৎ সাহা, যিনি চুঁচুড়া শহর যুব তৃনমূলের কার্যকরী সভাপতি।

প্রেমজিতের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ঝন্টু বিশ্বাসের বিবাদ শুরু হয়। প্রেমজিতের অভিযোগ করেছেন বিধবা ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে ঝন্টু অনৈতিক কাজ করে। তার প্রতিবাদ করার ফলেই তার ওপর আক্রমণ হয়েছে।

অন্যদিকে প্রেমজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি দলীয় দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “দাদাই সব দিদি কেউ নন”। এই দাদা বলতে অসিতকে বুঝিয়েছিলেন তিনি বলে দাবি কয়েকজন স্থানীয়র। আর তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ প্রসঙ্গেই অসিত মজুমদার বলেছেন, “তৃণমূলে এখন ডাকাতও কর্মী চোরও কর্মী‌। তাই বলে কি আমি ডাকাতকে ছেড়ে দেবো চোরকে ছেড়ে দেবো? কিছু দুষ্কৃতী প্রেমজিৎ সাহা কে মারধর করেছে প্রেমজিৎ সাহা হাসপাতালে ভর্তি। আমি রবীন্দ্রনগর ব্যান্ডেলকে শান্ত করে দিয়েছি। বালির মোরের মতো জায়গায় উচ্ছৃংখলতা চলবে মারধর করা হবে এটা হতে পারে না।” কিন্তু তিনি যাদের সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন বা অভিযোগ করেছেন তারা আসলে তারা তৃণমূলেরই কর্মী। সেই প্রশ্ন উঠতেই এই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন অসিত মজুমদার।

এদিকে বৃহস্পতিবার চুঁচুড়ায় একটি মিছিল করেন সুকান্ত মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। সেই মিছিল চলার সময় সংবাদমাধ্যমকে সুকান্ত বলেন, “এই চোর-ডাকাতদের নিয়েই তৃণমূলে ভোট করায়। বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার করায়। খুন ধর্ষণ করায়। বিজেপি কর্মীদের ঘর পোড়ায়। বিধায়ক এসব কথা বলে বাজার গরম করা ছাড়া কিছু হয় না। চোর-ডাকাতরা কেউ ধরা পড়বে না”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *