চাকরিপ্রার্থী মহিলাকে কামড়ানোর সমর্থন তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতির

পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর, ১১ নভেম্বর:
চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর তথা বিধায়ক অজিত মাইতি। শুধু তাই নয়, এক চাকরিপ্রার্থী মহিলাকে পুলিশের কামড়ে দেওয়াকেও প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি, যা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

অজিত মাইতি বলেন, “চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে আমি বলছি না, সবার চাকরি পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু প্রতিটা জিনিসের একটা সিস্টেম আছে। নিয়ম মেনে সবাইকে সেই চাকরি পেতে হবে। একটা ভুল যদি হয়ে থাকে, যার রায় এখনো আদালত দেয়নি, সেই একই ভুল পুনরায় সরকার করতে পারে না। সেই ভুল করানোর জন্য চাপ দিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একদল লোক দিনের পর দিন পথ আটকে বসে থাকছে, সরকারকে ও পুলিশকে অপদস্ত করার চেষ্টা করছে।” শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করেন, চাকরিপ্রার্থীরা পুলিশকে কামড়ে দিচ্ছে। যদিও পুলিশকে কামড়ানোর ছবি এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

অজিত মাইতি বলেন, “পুলিশকে কামড়ে দিচ্ছে। তার বিনিময়ে পুলিশ কামড়ে দেবে না তো কি রসগোল্লা ছুড়বে? হতে পারে, আমাদের সরকারের কোনও ব্যক্তির বা নেতার ভুল হতে পারে। তার জন্য মাথা নত করে প্রায়শ্চিত্ত করব। এই শিক্ষায় নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থানের নাম করে একটা বিড়ম্বনা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। আমরা চাকরি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নই, ওরা আমাদের বাড়ির ছেলে মেয়ে। কিন্তু কারো প্ররোচনায় ওরা অন্ধকার পথে হাঁটছে। ঠোকর খেয়ে পড়বেন। মনে রাখবেন আপনাদের জন্য অন্ধকারের মধ্যে একটা প্রদীপ জ্বালিয়ে নিশানা তৈরি করে রাখলাম। অন্ধকারে ঠোকর খেয়ে এই প্রদীপের নিশানা দেখে আসবেন, আমরা তৃণমূলের কর্মীরা বুকে তুলে নিয়ে ন্যায্য কোনও পাওনা থাকলে সরকারের কাছে অনুরোধ করব।”

এই নিয়ে জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, অজিতবাবুকে জিজ্ঞাসা করব, পুলিশ ম্যানুয়ালে কোথায় লেখা আছে আন্দোলনকারীদের হাত কামড়াতে হবে। আসলে পুলিশকে আপনারা কাজ করতে না দিয়ে রাজনৈতিক ক্যাডারে পরিণত করেছেন। যা চাকরী চুরি হয়েছে দেখবেন কোনওদিন আপনার বাড়িতে ঢুকে চাকরী প্রার্থীরা আপনার ঘাড় কামড়ে দেবে। তখন আপনি কিছু বলতে পারবেন না, কারন আপনার পুলিশ ওই রাস্তা দেখিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *